ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার চারটি প্রভাবশালী দেশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের কূটনৈতিক তৎপরতায় আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন তথ্যই সামনে এসেছে। তবে পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা শান্ত হলেও চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এখনও।
সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ বলছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছিল সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও ওমান। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ও নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই এসব দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল বলে বিদেশি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র এই দেশগুলোর এই সতর্কবার্তা ট্রাম্পকে আপাতত সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখতে সহায়তা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সৌদি আরব এ ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বৃহস্পতিবার ফোনে ইরান, ওমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ইরানে হামলা থেকে ট্রাম্পকে নিবৃত্ত করতে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান যৌথভাবে উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয়। আরেকজন উপসাগরীয় কর্মকর্তাও এই আলোচনা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই সৌদি কর্মকর্তা বলেন, ‘তিন দেশ একসঙ্গে শেষ মুহূর্তে দীর্ঘ ও তীব্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে সদিচ্ছা দেখানোর একটি সুযোগ দেন।
তার ভাষায়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল পুরো অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকানো। তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়াশিংটনকে জানিয়েছি, ইরানে হামলা হলে এর প্রতিক্রিয়ায় গোটা অঞ্চলে ভয়াবহ ও ধারাবাহিক পাল্টা আঘাত নেমে আসবে’। তিনি আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলে আরও বিস্ফোরণ ঠেকাতে এক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে সবাই। আস্থা ও ইতিবাচক পরিবেশ ধরে রাখতে যোগাযোগ এখনও চলছে।
আরেকজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানান, ইরানকে জানানো হয়েছে— উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও স্থাপনায় হামলা হলে, তা ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে নিরাপত্তা সতর্কতা কিছুটা কমানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো এএফপিকে জানায়, বুধবার কয়েকজন কর্মীকে সরিয়ে নেয়ার পর বৃহস্পতিবার ঘাঁটিটির ঝুঁকির মাত্রা কমে আসে এবং ধীরে ধীরে যুদ্ধবিমানগুলো আগের অবস্থানে ফিরতে শুরু করে। কিছু সামরিক ও বেসামরিক কর্মীও ঘাঁটিতে ফিরছেন বলে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে।
এর মধ্যেই হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান ৮০০ জনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এখনও নাকচ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বুঝতে পেরেছেন যে গতকাল কার্যকর হওয়ার কথা থাকা ৮০০টি মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে’। তিনি বলেন, ‘তবে ইরানের বিষয়ে সকল অপশনই এখনও প্রেসিডেন্টের টেবিলে রয়েছে।
লেভিট আরও জানান, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তেহরানকে ‘গুরুতর পরিণতির’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আজ বা আগামীকাল কোনও ফাঁসি কার্যকর হবে না’, যদিও এর আগে বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচারের ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান।
ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি দাবি করেন, ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে টানা ১০ দিন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়। এরপর ইসরায়েলের মদদে তিন দিন সহিংসতা চালানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
Leave a Reply