মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী আজ মহানবমী পূঁজা, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৯ মাসে মব সহিংসতায় নিহত-১৮৭ রংপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে-১৪ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচ বিষয়ে জোর ইসরায়েলে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিম ভোটাররা বিএনপি সরকারের ৮ মাসে পদ হারালেন ৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক এমপি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যজনক ফেসবুক পোস্ট

ঘুমানোর সময় রাউটার বন্ধ রাখলে শরীর যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার

রাতে ঘুমানোর আগে আপনি কি রাউটার বন্ধ করেন? নাকি ভাবছেন আজ থেকে শুরু করা দরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এমন দাবি বেশ ছড়িয়ে পড়েছে যে, মাত্র এক সপ্তাহ রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলেই নাকি ঘুম গভীর হয়, মানসিক চাপ কমে, এমনকি দীর্ঘদিনের মাথাব্যথাও সেরে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই দাবিগুলো কতটা সত্যি। বিশেষজ্ঞরা এ প্রসঙ্গে কথা বিস্তারিত কথা বলেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-ফাই রাউটার থেকে যে রেডিয়েশন বের হয়, তা অত্যন্ত নিম্নমাত্রার এবং ‘নন-আয়নাইজিং’ ধরনের। হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট চিকিৎসক ডা. হিরণ এস. রেড্ডি জানান, এই ধরনের রেডিয়েশন বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। তাই টানা সাত রাত ঘুমানোর সময় রাউটার বন্ধ রাখলেও শরীরে বড় কোনও জৈবিক পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
তবে কিছু মানুষ মনে করেন, তারা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। এমন ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা কিছুটা কম মনে হতে পারে। যদিও ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হাইপারসেন্সিটিভিটি’ নামে পরিচিত এই ধারণার পক্ষে এখনও শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
নিউরোলজিস্টদের মতে, ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু ওয়াই-ফাই নয় বরং আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোন আর ল্যাপটপ। অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার বলেন, রাউটার থেকে নির্গত তরঙ্গ ঘরের কয়েক মিটার দূরত্বেই আরও দুর্বল হয়ে যায় এবং তা ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনে তেমন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো সরাসরি মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে দেরিতে ঘুম আসে, ঘুম হয় হালকা, আর সকালে উঠেও ক্লান্ত লাগে।
তাহলে মানুষ ভালো বোধ করে কেন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে দেন। নোটিফিকেশন বন্ধ থাকে, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং কমে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। ভালো ঘুম মানেই ভালো মন, উন্নত স্মৃতিশক্তি, কম মানসিক চাপ এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
রাতে সাত দিন ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলেই শরীরে বড় কোনও অদ্ভুত পরিবর্তন হবে এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। তবে যদি এর ফলে আপনার স্ক্রিন টাইম কমে, ঘুম গভীর হয় এবং মন শান্ত থাকে, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো অভ্যাস হতে পারে। অর্থাৎ, উপকারটা রাউটার বন্ধে নয় বরং ভালো ঘুমের অভ্যাসে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories