শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্রসলাইন লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেট ও টিয়ারশেলে অন্তত অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আহতদের গুটিয়া হাসপাতালসহ শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভাদাম এলাকায় ক্রসলাইন লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ২১ রাউন্ড রাবার বুলেট ৫৮ রাউন্ড শটগান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও পুলিশ আহত হন। শ্রমকিরা আরো জানায়, ঈদের ছুটিসহ লক-ডাউনে গার্মেন্টস কারখানা ৫ আগষ্ট পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করায় শ্রমিকরা গ্রামের বাড়ি চলে যায়। পরে হঠাৎ ঘোষনা করা গত ১ আগষ্ট থেকে সমস্ত গার্মেন্টস কারখানা খোলা। কিন্তু যানবাহন বন্ধ থাকায় অনেকেই কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেনি। পরিবহন সংকটে পড়ে সময়মত কাজে যোগ দিতে না পারায় গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস আলম বলেন, ক্রসলাইন লিমিটেড পোশাক কারখানার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অপরদিকে, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন দাড়াইল এলাকায় এস এন্ড পি বাংলা লিঃ নামক পোশাক কারখানায় হঠাৎ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ নোটিশ জারি করে, কারখানার ভিতরে শ্রমিকদের নামাজ পড়া, পাঞ্জাবি দাড়ি টুপি পড়ে কারখানায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তীতে কারখানার শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। ঘটনাস্থলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও থানা পুলিশ কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ ইসলামী রাষ্ট্র অনুযায়ী আইন মেনে কারখানার পরিচালনা করার নির্দেশ দেয়া হলে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে কর্মস্থলে ফিরে যায়।

এ সময় কারখানায় উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোঃ ইলতুৎ মিস, সহকারী পুলিশ কমিশনার পীযূষ কুমার দে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস আলম, টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম।
এ বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস আলম জানান, ক্রসলাইন লিমিটেড পোশাক কারখানার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। দুটি কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
Leave a Reply