সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৪ সরকারি সফরে সিঙ্গাপুর গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিবছর দেশে ৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে : তথ্যমন্ত্রী বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আগামীকাল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কর্নেল অলিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করল ১১ দল টেকসই গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী ওয়ান ইলেভেনের সময় ডিজিএফআইর বন্দিশালায় রাখা হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে

অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ খাতে অস্বস্তি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার

দেশের অভ্যন্তরীণ খাতে অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা এখনও মন্থর। নিয়ন্ত্রণে আসেনি মূল্যস্ফীতি। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ফলে মানুষের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে কমছে না ঋণের সুদহার। বেসরকারি খাতে মন্দা কোনোভাবেই কাটছে না। ফলে বাড়ছে না বিনিয়োগ। কর্মসংস্থানের গতিও অত্যন্ত শ্লথ।
শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশে খুব একটা স্বস্তির জায়গা তৈরি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগ থেকে নিজেদের বিরত রাখছেন উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তাদের যারই বড় ধরনের ব্যাংক ঋণ রয়েছে, সুদহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। এ কারণে এখন নতুন বিনিয়োগের চিন্তা কেউ করছে না। যে দুয়েকজন উদ্যোক্তা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন, তারাও এখন ভয়ে আছেন।
অন্যদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার খবরে শেয়ারবাজারের পালে লেগেছিল হাওয়া। মাত্র চার দিনের উত্থানে শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছিল ৭৮৬ পয়েন্ট। এরপর উল্টো হাওয়ায় শেয়ারবাজার। টানা দর পতনে বিনিয়োগকারীর পকেট শূন্য। শেয়ারবাজার মৃতপ্রায়।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সময়ে আমদানির নামে ব্যাপকভাবে টাকা পাচার হয়েছে। বর্তমানে সেটি কমেছে। ওই সময়ে ডলার সংকটের কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে আমদানি বাড়ছে বটে, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। বিগত সরকার ডলার সংকটের কারণে ব্যাপক হারে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ স্থগিত করেছিল। সেসব ঋণসহ চলতি ঋণ শোধ করা হচ্ছে নিয়মিত। ফলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপও কমে গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতিতে এ খাতে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে টানা ৪ মাস রপ্তানি আয় কমেছে।
অর্থনীতিবিদরা জানান, অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান বিষয় আস্থার সংকট কাটেনি। কমেনি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা। পণ্য বাজারে যে অস্বস্তি ছিল, তা এখনও কাটেনি। মানুষ বাজারে গিয়ে দামের চোটে হচ্ছে নাকাল। বাজারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও রয়েছে মানুষের উদ্বেগ। আর উদ্যোক্তারা এখনও নতুন বিনিয়োগে তেমন এগিয়ে আসছেন না। তারা ব্যবসায়িক পরিবেশের বিশেষত আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নতি চান। অন্যদিকে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রয়েছে এক ধরনের স্থবিরতা।
জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। গত অর্থবছরে আমদানি বেড়েছিল পৌনে ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি। ডলার সংকটের কারণে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমদানি কমেছে। বিগত সরকারের সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। এখন তা বেড়ে ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করেছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়। এর প্রভাবে অর্থনীতিতে নতুন করে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। টাকার পাচার অনেকাংশে কমেছে। লুটপাট বন্ধ হয়েছে। ব্যাংকে আমানতের প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। তারল্য সংকট কমছে। কিন্তু পতিত সরকারের লুটপাটের তথ্য যত বেরোচ্ছে, খেলাপি ঋণ তত বাড়ছে। খেলাপির কারণে ব্যাংক খাতের সব সূচকে ধস নেমেছে। তারল্য ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে। এর মধ্যেও ব্যাংকগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। তারল্য সংকট ও নীতিমালার কড়াকড়ির কারণে এবং উদ্যোক্তাদের চাহিদা না থাকায় ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ বাড়াতে পারছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটেনি, উলটো আরও বেড়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও বিদ্যমান। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব কারণে উদ্যোক্তারা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। তারা শুধু চলমান ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার চেষ্টা করছেন, এতেও অনেকে সফল হতে পারছেন না। নতুন কোনো ব্যবসায় হাত দিচ্ছেন না। ফলে বিনিয়োগ যেমন হচ্ছে না, তেমনি কর্মসংস্থানের গতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সর্বনিম্নে নেমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে ঋণ প্রবাহ কমেছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এসে কিছুটা বেড়েছে। জুলাই-অক্টোবরে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে মাত্র দশমিক ৬৭ শতাংশ। যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯১ শতাংশ।
এদিকে ঋণের সুদের হার আলোচ্য সময়ে ৮-৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২-১৮ শতাংশে উঠেছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি যেমন কমেছে, তেমনি কর্মসংস্থানের গতিও কমেছে। কৃষি ও শিল্প উৎপাদনও নিম্নমুখী।
জানা গেছে, দেশের ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে নাজুক। আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। তা এখন বেড়ে ৬ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সোয়া এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহীদ আমাদের সময়কে বলেন, দেশের অর্থনীতির তিন পিলারের মধ্যে ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি। সরকারি-বেসরকারি উভয় ব্যাংকের একই অবস্থা। বীমা খাতের অবস্থা নাজুক। হাজার হাজার গ্রাহক বীমা দাবির টাকা ফিরে পাচ্ছেন না। আর দীর্ঘদিন ধরেই শেয়ারবাজারে অচলঅবস্থা চলছে। এর বাইরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও সুখকর নয়। দারিদ্র্য বাড়ছে। বেকারত্ব বাড়ছে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। সুদের হার বাড়ায় ব্যবসায় খরচ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতিতে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। সব মিলিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে অস্বস্তি রয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories