নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। বাজারে গেলেই স্পষ্ট-একই টাকায় আগের তুলনায় কম পণ্য মিলছে। অর্থাৎ কমছে ক্রয়ক্ষমতা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্টের এই সূচকটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। গভর্নরের অভিযোগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির কারণেই মূল্যস্ফীতি কমানো যায়নি।
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে এখনো ভুগছেন সাধারণ মানুষ। পেঁয়াজের ঝাঁজের সঙ্গে তেল নিয়ে তেলেসমাতি তো ছিলই, সঙ্গে যোগ হয়েছে চালের বাড়তি দাম। অথচ সেই হারে বাড়ছে না আয়। ফলাফল-বাজারে গিয়ে মিলছে না হিসাব। অর্থনীতির ভাষায়, বছর ব্যবধানে জিনিসপত্রের এই দাম বৃদ্ধিকেই বলা হয় মূল্যস্ফীতি।
বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করে এই সূচকের লাগাম টানার চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংস্থাটির তথ্য বলছে, গেল নভেম্বরে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। আর সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিসেম্বরের মধ্যে এটিকে ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, যে টাইমলাইন নির্ধারণ করেছি, সেটা নাও হতে পারে-হয়তো ফেব্রুয়ারি মাসে হতে পারে। আমরা কিন্তু অলরেডি ৭-এর নিচে থাকতে পারতাম। কেন বলছি? দুটো আইটেম। একটা হলো চাল-১৮ শতাংশ বেড়েছে। এটা যদি আমরা সময়মতো ভারত থেকে আমদানি করতাম, তাহলে কিন্তু আমাদের সাধ্যের ভেতরে চলে আসত।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার নেপথ্যে বাজার ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন গভর্নর। তার অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের যোগান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে আমদানি ইস্যুতে ভুল সিদ্ধান্ত ও গড়িমসির কারণেই মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা যায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশে আমরা পেঁয়াজ খাই ২৫–৩০ লাখ টন। ১৫শ’ টন দিয়ে বাজার কীভাবে স্থিতিশীল করবে? আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকর্তারা আছেন, তাদের মাথায় কী কাজ করে জানি না। আমাকে বাজারের সঙ্গে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে ইন্টিগ্রেট না করতে পারলে আমাদের নিজস্ব মূল্যস্ফীতির সাপ্লাই দিকটাকে আমরা নিজেরাই ডিসটার্ব করেছি।
নিত্যপণ্যের বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসারে বাড়ছে হিসাবের বোঝা। আর আয়ের খাতায় রয়ে গেছে সেই পুরোনো সংখ্যা। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধ দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। প্রান্তিক এই মানুষগুলোকে স্বস্তি ফেরাতে ঘোষণা নয়, দরকার কার্যকর উদ্যোগ। সরকারের সব পক্ষের সমন্বয়ে বাস্তবমুখী ও জবাবদিহিমূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply