চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নবনির্বাচিত নির্বাহী সদস্য আকাশ দাশের একটি ফেসবুক পোস্টে ধর্ষণকে কেন্দ্র করে করা মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এমন কি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) শপথ অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছে বেশকিছু নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।
সম্প্রতি আকাশ দাশ তার পোস্টে লিখেন, ধর্ষণে ছেলের দোষ যদি ৭০ ভাগ থেকে থাকে, তাহলে মেয়ের দোষ ৩০ ভাগ হলেও আছে। পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বুয়েটের সাম্প্রতিক ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে দেশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা থাকা সত্ত্বেও ‘একতরফাভাবে কাউকে দায়ী করা যায় না’ এবং অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা ‘ছেলেদের ফাঁসানোর জন্য ধর্ষণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে’, বুয়েটের ঘটনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। যদিও এক পর্যায়ে তিনি পোস্টটি ডিলেট করে দেন।
এই বক্তব্য প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চাকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক নির্বাচিত প্রতিনিধি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য নবনির্বাচিত চাকসু ও হল সংসদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আকাশ দাশ উপস্থিত থাকলে শপথ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আলাওল হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত নূরনবী হাসান তার একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কাল যদি আকাশ দাশের মতো বিকৃত মানসিকতার মানুষের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞান অডিটোরিয়ামে শপথ নিতে হয়, তাহলে আমি সে শপথ প্রত্যাখ্যান করব।
শাহজালাল হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত ইমতিয়াজ জাবেদও একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, অনেকে ভোট ব্যাংকের গরম দেখাচ্ছে বলতে চাচ্ছেন, ভোটই মানুষের যোগ্যতা। শাহজালাল হলে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, কাল যদি আকাশ দাশের মতো বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের সঙ্গে শপথ নিতে হয়, তাহলে আমি সে শপথ আমি প্রত্যাখ্যান করব।
এ বিষয়ে আকাশ দাশ বলেছেন, তিনি মন্তব্যটি করে যে এত বড় ইস্যু তৈরি হবে তা কল্পনাও করেননি। তিনি দাবি করেছেন, আমি যে শুধু পক্ষপাতমূলক কথা বলেছি তা নয়। আমি কিন্তু আমার পোস্টে ধর্ষণকারীদের শাস্তিরও দাবি করেছি। তবে যা হয়েছে, আমি সবকিছুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য সংবাদ সংগৃহীত হওয়া পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আগামীকালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ও আকাশ দাশের শামিল বা অনুপস্থিতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছাত্রনেতাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনার দাবি তুলেছে, প্রয়োজন হলে তারা আরও কঠোর কর্মব্যবস্থা নেয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
Leave a Reply