সম্প্রতি নওগাঁ মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান একই বিভাগের অধ্যাপক ডা. কান্তা রায় রিমি। এ নিয়োগের পর নওগাঁ মেডিকেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা তার অপসারণ দাবি করে গত ১৩ নভেম্বর ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, অধ্যাপক ডা. কান্তা রায় রিমি হিন্দু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
ফেসবুকে দেয়া ওইসব পোস্টে দাবি করা হয়, হিন্দু হওয়ায় মেডিকেল শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ডা. কান্তা রায় রিমির অপসারণ দাবি করেছেন। এভাবে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হিন্দু কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।
তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওইদিন অধ্যাপক রিমিকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দেয়া ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ করেন নওগাঁ মেডিকেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। তিনি হিন্দু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাকে অপসারণের দাবি জানাননি।
অনুসন্ধানকালে দেশের মূল ধারার অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অধ্যাপক রিমির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভের বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে মূল ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, ওইদিন নওগাঁ মেডিকেল কলেজে নতুন নিয়োগ পাওয়া এনটামি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কান্তা রায় রিমিকে অপসারণের দাবি তুলে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে এই দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
ওই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলেছেন বিভাগীয় প্রধান হিসেবে নতুন নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ডা. কান্তা রায় রিমি ফ্যাসিস্টের দোসর এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সেই সঙ্গে অধ্যাপক রিমির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তারা ওই শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
ঘটনার অধিকতর যাচাইয়ে নওগাঁর স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক ছাড়াও নওগাঁ মেডিকেল কলেজের একাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার। তারা জানান, গত ১৩ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা নানা অভিযোগে অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. কান্তা রায় রিমির অপসারণ দাবি করেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন অভিযোগও করে শিক্ষার্থীরা তার অপসারণ দাবি করেন। তবে ধর্মীয় কোনো ইস্যুতে ওই অধ্যাপকের অপসারণ দাবি করা হয়নি বলেও জানান তারা। সুতরাং, সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. কান্তা রায় রিমিকে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন এমন দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
Leave a Reply