গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশ-শ্রমিকের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এতে মহাসড়কের ১৫ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫ ঘন্টা ধরে বন্ধ থাকা সড়কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।
৩১ অক্টোবর দুপুর ২ টায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় মহাসড়কের উপর মাটি ভর্তি বস্তা ও কাঠ রাস্তার ডিভাইডারের ইট ফেলে রাস্তা অবরোধ ও বাঁশ ফেলে আগুন ধরিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ নগরীর কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রায় পর্যন্ত ১৫ টি শিল্প কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন। মহাসড়কে যাত্রী-চালকদের দুর্ভোগ নিরসনে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে পুলিশ শ্রমিকদের অনুরোধ জানায়। তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেয় ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ শুরু করে। এতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হলেও অপর দিক থেকে আক্রমন করতে থাকে। এসময় শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গেলে এপিসি কারসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলমান রেখেছে। বর্তমানে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ফায়ার সার্ভিস চন্দ্র ত্রি মোড়, পল্লী বিদ্যুৎ বাস স্ট্যান্ড আনসার একাডেমি, শফিপুর, পল্লীবিদ্যুতসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আজিজ জানান, কোনাবাড়ি থেকে টাঙ্গাইল অভিমুখে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়েছে। একই ভাবে টাঙ্গাইল থেকে গাজীপুর অভিমুখে দীর্ঘ যানজটের তৈরী হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, বর্তমানে মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে আগুন জ্বালিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছে। পুলিশ তাদের বুঝিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে। উত্তেজিত শ্রমিকদের নিবৃত্ত করা ও যানমালের নিরাপত্তায় সাউন্ড গ্রেনেড করা হয়েছে। এখোন যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
Leave a Reply