শিল্পাঞ্চল খ্যাত টঙ্গীতে অবস্থানরত দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানার এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর অধিনস্থ টঙ্গী শিল্পাঞ্চল ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমিটির ঝিমিয়ে পড়া কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সু-সংগঠিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর পর নতুন করে টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো.ফজলুল হককে আহবায়ক এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্য বিশিষ্ট টঙ্গী শিল্পাঞ্চল ইউনিট কমান্ড’র কমিটি করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে টঙ্গীর সোনালী ট্যোবাকো রোডে বৃহৎ কুমিল্লা সমিতির ২য় তলায় অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আহবায়ক কমিটির অন্যান্যরা হলেন, যুগ্ম আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. লিয়াকত আলী-২, কোষাধ্যক্ষ বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুজ্জামান, কার্যকরী সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মো.নাজিম উদ্দিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাসেম, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. এমদাদুল হক খান।
এ সময় বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. লিয়াকত আলী-১, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আলী আকবর, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. হালিম, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজ উদ্দিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নাজির আহমেদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর গফুর, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. হাবিবুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল কাদের, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো.আবদুর রশিদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুল হক সরকার, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মজিবুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাম মোস্তফা, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নূর মোহাম্মদ-সহ প্রায় ৭০/৮০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাগন জানান, এক সময়কার সাধারণ একজন সদস্য ও পরবর্তীতে আহবায়ক কমিটির আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওমর ফারুক এক অদৃশ্য শক্তি বলে সংগঠন কর্তৃক নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট দেখাশোনা এবং এর ভাড়া উত্তোলন পূর্বক সংগঠনে আয় ব্যয় সংক্রান্ত টাকা সংগঠনে জমা রাখার পরিবর্তে গত প্রায় ১৭/১৮ বছর যাবৎ একক ভাবে লুটপাট করে হাতিয়ে নিচ্ছে। সংগঠনের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দসহ ৭০/৮০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশসহ অবিলম্বে মার্কেটের ১৭/১৮ বছরের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত হিসাবসহ লুটপাট করা সমস্ত টাকা ফেরৎ এবং মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্বসাৎ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
সংগঠনের সদস্য সচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরী জানান, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পরই রাজধানী ঢাকার মগবাজারে কেন্দ্রিয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল প্রতিষ্টার পর উক্ত সংগঠনের ইউনিট হিসেবে শিল্পাঞ্চল খ্যাত টঙ্গীর বিভিন্ন মিল-কলকারখানায় চাকুরি এবং বসবাসের সুবাধে দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানার এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রায় ৩০০শ মুক্তিযোদ্ধার সমন্বয়ে টঙ্গী কামারপাড়া রোডের পূর্ব পাশে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন গঠিত হয় টঙ্গী শিল্পাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড। পরবর্তীতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দরিদ্র অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিপদকালীন অর্থনৈতিক সহযোগীতার উদ্দেশ্যে উক্ত জায়গায় একটি অফিসঘরসহ ২৪ টি দোকান ঘর নির্মাণ করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া প্রদান করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই যে, নেতৃস্থানীয় দুই-চারজন ছাড়া আজ পযর্ন্ত সাধারন কোনো মুক্তিযোদ্ধা এর সুফল ভোগ করতে পারেনি। ইতিমধ্যে প্রায় একাধিক বীরমুক্তিযোদ্ধার অন্তিম প্রয়াণসহ দেড়-শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা টঙ্গী ছেড়ে চলে গেছে। যারা টঙ্গীতে রয়েছেন তারাও সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওমর ফারুকের হাতে জিম্মি রয়েছেন বলে দাবি সভায় উপস্থিত বীরমুক্তিযোদ্ধাদের। বীরমুক্তিযোদ্ধাদের এ জিম্মিদশার অবসান ঘটিয়ে সংগঠনটিকে উজ্জীবিত ও সংগঠনের অফিস পূর্ণনির্মাণ, টঙ্গী শিল্পাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সার্বিক উন্নয়ণ এবং সদস্যদের মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান কমিটির বলে জানান বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরী।
টঙ্গী শিল্পাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের অর্থ আত্বসাৎ ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের জিম্মির বিষয়ে জানতে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. ওমর ফারুকের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply