গত শনিবার আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় শৃঙ্খলাভঙ্গে অভিযুক্ত নেতা ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাধারণ ক্ষমার সিদ্ধান্ত হয়। এরই অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই সাময়িক দরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙ্গা উল্লাস শুরু হয় গাজীপুর জুড়ে। নতুন করে আবারো গাজীপুরের টক অফ দা টেবিলে পরিণত হয় বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমএবং গাজীপুর মহানগরের রাজনীতি।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে-এমন খবর এখন নগরবাসীর মুখে মুখে। দলে ফেরার গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ায় শিগগিরই তিনি মেয়রের চেয়ারে বসবেন এমন প্রত্যাশা তার সমর্থকদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদ মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রচার প্রচারণা তুঙ্গে এ খবর। ইতিমধ্যে ইউটিউব, ফেসবুকে পোস্ট, কমেন্ট, লাইকের বন্যা বইছে। অনেকেই জাহাঙ্গীর আলমের ছবি পোস্ট করে তার প্রত্যাবর্তনকে সাধুবাদ জানাচ্ছে, সেই সাথে তার বাসনের বাসায় গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা, মিষ্টি বিতরণ চলছে হরদম। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করছেন।
অপরদিকে জাহাঙ্গীর বিরোধী কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডলের নেতৃত্বে আবারও শুরু করেছেন বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা। ইতিমধ্যে গাজীপুরে বোডবাজার এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের গ্রেপ্তার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর গাছা থানাধীন বোডবাজারে জাহাঙ্গীর আলমের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন জাহাঙ্গীর আলম বিরোধীরা। মিছিলটি মহানগরীর বোড বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বের হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বোর্ড বাজার এলাকায় মিলিত হয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন। কেন্দ্রিয় দলীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধা প্রদর্শন করে প্রতিবাদ সভায় ৩৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল আল মামুন মন্ডল বলেন, জাহাঙ্গীর আলম জাতির পিতা কে নিয়ে কটুক্তি করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তি করেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করে বাঙালি জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করেছেন। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের আইনের কাছে জাহাঙ্গীর আলমের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।

অন্যদিকে, নগরীর হারিকেন (বাসন) এলাকায় জাহাঙ্গীরের বাসভবন ও ভবনের সামনে আবারও নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং জাহাঙ্গীর আলমকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন প্রতিদিন।
এ্যাড. মো. জাহাঙ্গীর আলম সমর্থকরা বলছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গতি আনতেই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে সংগঠন গতি পাবে এবং গাজীপুর সিটির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে মত তাদের।
দলে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যা শোনেছেন ঠিকই জেনেছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গাজীপুর মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের সবাইকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরকে আধুনিক বাসযোগ্য আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তুলব। স্থানীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দিনে আধুনিক গাজীপুর গড়ার কাজে হাত দেব শীঘ্রই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আমরা সম্মিলিতভাবে শক্তিশালী করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে যা যা করার সবই আন্তরিকতার সঙ্গে করব।
এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি মঙ্গলবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর আলম সহ ১০০ মতো আবেদন ছিল। সকলকেই মওকুফ করা হয়েছে। যে পাপে তারা সাজা পেয়েছেন তার পূণরাাবৃত্তি ঘটাবে না এমন শর্তে সকলকে মাফ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর সিটির মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
Leave a Reply