এ্যাড.মো. জাহাঙ্গীর আলম বৃহত্তর গাজীপুর সিটির মেয়র পদে ফেরার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাকে (জাহাঙ্গীর আলমকে) মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়নি, সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িকভাবে বরখাস্ত যেসব কারণে করা হয়েছে, সেগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। এ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম মেয়র পদে শীঘ্রই ফিরছেন কি না প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না, এটা সময়ের ব্যাপার ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠায় গত ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় জাহাঙ্গীরকে। সেই সাথে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকেও তাকে বহিস্কার করা হয়। ২১ ডিসেম্বর ২০২২ বুধবার বিকেলে মৌচাকে জাতীয় যুব রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক ক্যাম্পের অনুষ্ঠানে আসা স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীকে এ্যাড. জাহাঙ্গীর আলমের মেয়র পদ নিয়ে প্রশ্ন করেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। এ সময় মন্ত্রী বলেন, তাকে (জাহাঙ্গীর আলমকে) তো মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়নি, সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িকভাবে বরখাস্ত যেসব কারণে করা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ে সেগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠায় গত বছরের শেষ দিকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয় জাহাঙ্গীর আলমকে। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শতাধিক নেতা, যারা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষমা করা হয়েছে।

এরপর থেকেই গাজীপুর সিটি জুড়ে এক ভিন্ন মাত্রার রাজনৈতিক হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মেয়র পদে ফিরছেন জাহাঙ্গীর আলম এমন প্রচার প্রচারণায় গাজীপুর সরগরম হয়ে উঠেছে । জাহাঙ্গীর আলম সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে পুরো সিটি এলাকা জুড়ে।
গত বছর সেপ্টেম্বরের শুরুতে গোপনে ধারণ করা জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ্যাড.জাহাঙ্গীর আলমকে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং একই বছর নভেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদসহ দলের প্রাথমিক সদস্য পদও থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

ওই সময় বরখাস্তের কারণ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগের কথা বলা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া টেন্ডার, আরটিকিউ, বিভিন্ন পদে অযৌক্তিক লোকবল নিয়োগ, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ও একই কাজ বিভিন্ন প্রকল্পে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিবছর হাটবাজার ইজারার অর্থ যথাযথ ভাবে নির্ধারিত স্থানে জমা না রাখাসহ নানাবিধ বিষয় উত্থাপিত হয়েছে।আরও বলা হয়, যেহেতু ভূমি দখল ও ক্ষতিপূরণ ব্যতিত রাস্তা প্রশস্তকরণ সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মতামত জানতে চাওয়া হলে অদ্যাবধি কোনো মতামত প্রদান করা হয়নি এবং যেহেতু বর্ণিত অভিযোগসমূহ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিনিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অপশাসনের শামিল, যা সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯-এর ধারা ১৩(১)(ঘ) অনুযায়ী অপসারণযোগ্য অপরাধ।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এসব অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাই সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯-এর ধারা ১২(১) অনুযায়ী সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে এ্যাড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ্যাড. মো. জাহাঙ্গীর আলম সমর্থিত নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শতাধিক নেতা, যারা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন এবং মেয়র থাকাকালীন এ্যাড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত কারণগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । খুব শীঘ্রই এসবের সমাধান হবে এবং জাঙ্গীর আলম তার মেয়র পদ ফিরে পাবেন বলে আমরা আশা করছি।
Leave a Reply