বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, সম্মেলনের নামে আওয়ামীলীগকে ভয় দেখাবেন না। কারণ আওয়ামীলীগ ভালো করে জানে কিভাবে সম্মেলন করতে হয়। কিভাবে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া যায়।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী কলেজ গেইট এলাকায় টঙ্গী সরকারি কলেজের মাঠে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, এমপি বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি।
ফারুক খান আরও বলেন, আজকের সম্মেলন প্রমাণ করে করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাড়া বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া টঙ্গী গাজীপুরে আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি। ২০০৪ সালে টঙ্গীর জনপ্রিয় এমপি আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে হত্যার পর গাজীপুরের জন-সাধারণ এবং নেতাকর্মী যেমন প্রমাণ করেছিলো ঠিক তেমনী জন-সভায় নেতাকর্মীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন প্রমাণ করলো গাজীপুরে আওয়ামীলীগের শক্ত অবস্থান রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে টঙ্গী পূর্ব এবং পশ্চিম থানার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিলে মিছিলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে টঙ্গী সরকারি কলেজ ও শফিউদ্দিন সরকার স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ। টঙ্গী পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে ১২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২৫ জন এবং অপর দিকে পশ্চিম থানায় সভাপতি পদে ৭ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬ জন প্রার্থীতা ঘোষনা করনে। তাদের মধ্যে টঙ্গী পশ্চিম থানার সভাপতি প্রাথী হাজী সেলিম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা, এ্যাড. আজিম হায়দার আজিম, টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইঞ্জি: এম এম হেলাল উদ্দিন এগিয়ে রয়েছেন।
অপরদিকে টঙ্গী পূর্ব থানা থেকে সভাপতি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এম সাত্তার মোল্লা, কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমান টিটু প্রার্থীতা পদে এগিয়ে রয়েছেন। এসকল প্রার্থীরা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। সভার দ্বিতীয় অংশে টঙ্গীর দুটি থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে পৃথক দুটি থানার একজন করে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাক নির্বাচনের জন্য সকল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রাথীদের বিশ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেয়া হলেও কেউই ঐক্যমত পোষন না করায় বিশ মিনিট পর উভয় থানার কমিটি গঠনে কারো নাম ঘোষনা না করে সম্মেলন সমাপ্তী ঘোষনা করা হয়। এতে উপস্থিত পদ প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। নেতাকর্মীদের ধারনা দলীয় গ্রুপিং লবিং এবং সভাস্থলের পরিস্থিতি অনুকুলের বাইরে থাকার কারণে কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ ঘোষনা করা হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আওয়ামীলীগের থানা কমিটি ঘোষনা করা হবে বলে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. আজমত উল্লাহ খান দলীয় সকল নেতাকর্মীদের আশ্বাস দেন।
নেতাকর্মীরা আরো জানান, প্রায় ১৯ বছর পর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে কমিটি ঘোষণা না করে উল্টো স্থগিত রাখা উচিৎ হয়নি। পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বিপুল পরিমান টাকা খরচ করে ব্যাণার,ফ্যাষ্টুন, পোষ্টার করে এবং নেতাকর্মীদের সমাগম করে অথচ কমিটি ঘোষনা না করায় তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহা খান বলেন, টঙ্গীর দুইটি থানায় আজ আমরা কমিটি ঘোষণা দেইনি। গত ১৯ নভেম্বর গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি শেষে সকলের মতামতের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় কমিটি ঘোষণা করা হবে। যাঁরা পদ দাবী করেছেন তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটিতে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে আমাদের।
এই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার ভুইয়া, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল, গাজীপুর সিটিকর্পোরেশনের মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস আহম্মেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
Leave a Reply