জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী নারী ও সকল শহীদ আমাদের কর্মোদ্যমের অনুপ্রেরণা। যারা সবকিছু ভেঙে চুড়ে সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে একটা অদম্য বাংলাদেশ নিশ্চিতে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। দেশের আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যে দাঁড়িয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে প্রাণ দিয়েছে আগামী প্রজন্ম ভালো থাকার জন্য। দু’ লক্ষ মা বোন পাকিস্তানি পিশাচের সামনে দাঁড়িয়ে নির্যাতন সয়ে যে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন সেই মা বোনেরা যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছেন, সেটি তৈরি করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।’
রাজধানীর সোবহানবাগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্ক টাওয়ারে ইভেন্স গ্রুপ ও এডুকেশন ওয়াচ আয়োজিত ‘শিক্ষা ও এ সময়ের শিক্ষকেরা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য।
দেশের প্রথিতযশা এই সমাজচিন্তক বলেন, ‘আমি সম্ভাবনা, ইতিবাচকতায় বিশ্বাস করি। কারণ যে দেশে মুক্ত মনের মানুষ থাকে। সেই দেশ অন্য কোনো জাতিরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করবে ইতিহাসবোধ তা বলে না। ইতিহাস বলে বাংলাদেশ নিজেদের কাছ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করবে। কেননা পৃথিবীতে আর কোনো দেশ নেই যে, এতো মানুষ আত্মাহুতি দিয়ে রাষ্ট্র সৃষ্টির বিপ্লবকে স্বার্থক করেছে। এটি শুধু অপার সম্ভাবনার দেশ নয়, এতটুকু জেনে রাখুন, যে দেশ তার বর্ডার সিকিউরিটি, হেলথ রিস্ক জানা সত্ত্বেও লাখো শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার সাহস এবং মানবিকতা দেখায়, সেদেশ বিশ্বের ক্রান্তিকালে নেতৃত্বে দেবে এ আমার গভীর বিশ্বাস।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশকে যারা ছোট করে দেখেন বা হঠাৎ করে মনে করেন এদেশ কাল শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে, দয়া করে এই দেশে থেকে এই ভাবনা থেকে দূরে থাকুন। বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কা হবে না। বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হবে। কারণ একজন শিক্ষক কোনো প্রতিদান না চেয়ে তার জীবনের জন্য অন্য বৃত্তি বেছে নিতে পারতেন। সেটি না করে হাত-পা হারানো অবস্থায় সে প্রজন্ম গড়তে চায়। সেই দেশ শ্রীলঙ্কা হবে এটি সুস্থ মাথায় কীভাবে আসে। বঙ্গবন্ধু যেদিন ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের ফয়সালা সেদিন হয়ে গেছে। সেদিন নির্ধারিত হয়েছে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি এক হয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।’
উপাচার্য ড. মশিউর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক বিভেদ থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে, প্রিয় বাংলাদেশকে ভালোবেসে, তাদেরকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে নতুন প্রজন্মকে যদি গড়ে তুলতে পারি, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ শুধু অপার সম্ভাবনার নয়, বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আমাদের সৃজনশীলতায়, সাহিত্য, বিজ্ঞান চর্চা, শিল্প চর্চায় যারা দারিদ্র দেখেন তারা প্রাচ্য বোঝেন না। প্রাচ্যের শক্তি অপার। যে পাশ্চাত্য গড়ে উঠেছে প্রাচ্যের শক্তিকে ভর করে। আসুন প্রাচ্যের শক্তির উত্থান ঘটাই। বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলি।’
ইভেন্স গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক শবনম শেহনাজ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. লুৎফর রহমান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান, বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সদস্য সচিব মো. শাহজাহান আলম সাজু, স্পর্শ বেইল ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাজিয়া জাবিন। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুজ্জামান রুমান আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এডুকেশন ওয়াচের সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে দু’জন প্রতিবন্ধী শিক্ষকসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষককে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরও উপহার সামগ্রী দেয়া হয়।
Leave a Reply