আমাদের জনজীবনে নৌপথ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র,বানার ও শীতলক্ষ্যা তিন নদীর মোহনায় ধাঁধার চড়ে বিশ্ব নদী দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে নদী রক্ষায় সচেতন করা। মানুষকে জানানো, নদী হচ্ছে পৃথিবীর ধমনির মতো। এর প্রবহমানতাই সত্যিকার অর্থে আমাদের জীবন রক্ষাকারী। ২৫ ( সেপ্টেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে বিশ্ব নদীর রক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক বজলুর রশিদ,অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির হোসেন। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন,কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম গোলাম মোর্শেদ খাঁন,উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নাজমুল হুসাইন,মিসেস তৌহিদা আহমেদ খাঁন,মিসেস নিঝুম নিদিয়া, মিসেস আমেনা আক্তারসহ পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাগন,নোঙর নদী কমিটির সভাপতি ও সহকর্মীগন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,সুশীল সমাজ,বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ-সময় ব্রহ্মপুত্র,বানার ও শীতলক্ষ্যা নদী আশপাশ পরিদর্শন করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ দর্শনে শোষণে নদীগুলো আজ বিলীন হওয়ার পথে। প্রাকৃতিকভাবে খাল,বিল, হাওর,নদী-নালাতে যে পরিমাণ পানি বছরের জমা হয় তার ৮ শতাংশ আমরা ব্যবহার করতে পারি। অবশিষ্ট পানি সাগরে চলে যায়। ভূপৃষ্ঠের ১২ শতাংশ পানি যদি আমরা সঞ্চয় করে রাখতে পারি তাহলে দেশের পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। নদীগুলো আজ বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন। নদী ও নদীর তীরভূমি, ফোরশোর অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছু নদী ভরাট, নাব্যতাহীনতা এবং দখল, দূষণের কারণে ইতিমধ্যে মৃত ও বিলুপ্তপ্রায়। জীববৈচিত্র্য, নদীর পানি ও পরিবেশ ক্রমান্বয়ে দূষিত নষ্ট হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে বেশ কিছু নদী,বর্তমানে আমাদের নদ-নদী ও জলাশয় রক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে পানির অসীম গুরুত্ব বিবেচনা করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড’ নামে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা সৃষ্টি করেন। তারই আলোকে নদ-নদী সুরক্ষায় জাতির পিতা আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সময়োপযোগী ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় ও জলাধার দখল ও দূষণ থেকে মুক্ত করে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন,নদী দূষণ শোষণ ও নদীতে অবৈধ স্থাপনা দখল করে যারা নদীর পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করছেন। সকল প্রকার অবৈধ দখলদারদেরকে উচ্ছেদ করে নদীর গতিপথ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। খুব শীঘ্রই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।নদীর অবকাঠামো,পানি ও পরিবেশ সুরক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
Leave a Reply