উন্নয়নের জোয়ারে সরকার দেশ বা দেশের মানুষকে নয়, বরং দেশ থেকে গণতন্ত্রকে ভাসিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
তিনি বলেছেন, এ দেশের মানুষ জেগেছে, তারা এখন রাজপথে নেমেছে। অবশ্যই গণতন্ত্র পুনরায় ফিরিয়ে আনবে। সরকার দাবি করে, তারা নাকি দেশকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিচ্ছে। কোন উন্নয়ন? যে উন্নয়নে গণতন্ত্র ভেসে যাচ্ছে, দেশ রসাতলে যাচ্ছে। এটাই বর্তমান অবস্থায় আসল এবং সত্যি কথা।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাধারণ মানুষ ও সিপাহী জনতার ডাকে দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি যেভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন ঠিক একইভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত হয়ে, সুস্থ হয়ে আগামীতে দেশের গণতন্ত্রকে পুনরায় মানুষের হাতে ফিরিয়ে দেবেন।
বিএনপির বর্তমান আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, আমরা রাজপথে আছি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এ দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিকভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যতক্ষণ না একটি গণতান্ত্রিক দেশ ফিরিয়ে দিতে পারবো ততক্ষণ আমরা রাজপথ ছাড়ছি না।
সরকার অগণতান্ত্রিকভাবে এ দেশ পরিচালনা করছে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের অনিচ্ছায় ভুয়া সংসদের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করছে। এ সরকারকে হটিয়ে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকারে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যে সরকার হবে বৈধ সরকার।
ড. মঈন খান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। দেশের মানুষকে ভালোবেসে তাদের জন্য রাজনীতি করে। যেটা জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন। এজন্যই বিএনপির মূলমন্ত্র ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।
পঁচাত্তরের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিয়াউর রহমানই দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। এর দ্বারাই প্রমাণ হয় এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি যদি সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে না আনতেন তাহলে আজকের আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাও হতো না, তারা সরকারেও থাকতো না।
জিসপ সভাপতি এম হিরান উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বিএনপির সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ।
Leave a Reply