সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি ঢাকা জেলা পুলিশ দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌর মেয়র আব্দুল গনি। তিনি বলেন একযুগ ধরে কমিউনিটি সেন্টারের দোতলা ভবনটি পুলিশের ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করছে ঢাকা জেলা পুলিশ।
মেয়র আব্দুল গনি আরও বলেন, পুলিশের বড় কর্মকর্তা, এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেও পুলিশের দখল থেকে কমিউনিটি সেন্টারটি মুক্ত করতে পারছি না। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর যদি কমিউনিটি সেন্টারটি দখল মুক্ত হয় তবে পৌরবাসী খুব উপকৃত হবে এবং বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে সরকার।
সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, সরকারি কমিউনিটি সেন্টারটি বন্ধ থাকার কারণে আমাদের অনুষ্ঠানের খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। আমরা অতি দ্রুত কমিউনিটি সেন্টারটি ব্যবহার উপযোগী হিসেবে ফিরে পেতে চাই।
জানা গেছে, জরাজীর্ণ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঝুকিপূর্ণ ভাবেকয়েকজন পুলিশ সদস্য বসবাস করছে। দেয়ালে আস্তর খসে পড়েছে। অযত্ম অবহেলায় দেয়াল জুড়ে গাছ লতা-পাতা জন্মেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সাভার থানা রোডে সাভার কলেজের সামনে নির্মাণ করা হয় সাভার কমিউনিটি সেন্টারটি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ার কারণে উদ্বোধনের পর থেকে জাঁকজমক ছিল পৌরসভার একমাত্র সরকারি কমিনিউটি সেন্টারটি। প্রায় প্রতিদিনই এখানে বিয়ে, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো। কিন্তু পরে ঢাকা জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারের জমিটি তাদের বলে দাবি করে। সাভার পৌর কর্তৃপক্ষ বলে ভবন তাদের অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে ও জমিটি তাদের। পরে দুপক্ষেই আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা করে। জেলা পরিষদ ও পৌরসভার দ্বন্দ্বে কমিউনিটি সেন্টারটি বন্ধ হয়ে যায়। সে সুযোগে ঢাকা জেলা পুলিশ ভবনটি দখল করে পুলিশ ব্যারাক স্থাপন করে।
জেলা পরিষদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের ব্যাপারে জানতে চাইলে, মেয়র গনি বলেন, কমিউনিটি সেন্টারের মালিকানা নিয়ে জেলা পরিষদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব মিটে গেছে। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। রায় পাওয়ার পরে কমিউনিটি সেন্টারটি সংস্কার করে পৌরবাসীর ব্যবহার উপযোগী করার জন্য পুলিশকে ভবনটি ছাড়ার অনুরোধ করলে তারা ছাড়তে অপরাগতা প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে জানার জন্য ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ সরদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগােযাগ করাহলে তিনি বলেন, আমি কি কমিউনিটি সেন্টারটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছি ? পুলিশ জনগণের জন্য কাজ করে, তাই ওটা পুলিশের থাকার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
কিন্তু কমিউনিটি সেন্টার তো পৌরবাসীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহার করার জন্য বানানো হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। এরপরই তিনি মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।
Leave a Reply