শারীরিক ক্রিয়াকলাপের জন্য লবণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রকমারি খাবারে এটির ব্যবহার স্বাদ বৃদ্ধি করে থাকে। আবার এর পরিমাণ কম হলে স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য লবণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে খাবারে লবণ কম হলে পরে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ নিয়ে থাকেন অনেকে। যা শরীরের ক্ষতি করে থাকে।
শরীরের জন্য লবণ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এর অধিক গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মতো সমস্যা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। সাধারণত বয়স, জীবনধারণ ও স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে লবণ খাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু একজন মানুষের কী পরিমাণ লবণ খাওয়ার প্রয়োজন, তা অজানা অনেকের। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। এবার তাহলে বিষয়টি জেনে নেয়া যাক।
০ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু: শিশুদের লবণ খুব কম খাওয়া উচিত। লবণ হচ্ছে সোডিয়াম উপাদান। আর অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রক্রিয়া কিডনি বিকাশে জটিলতা সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের জন্য দিনে ১ গ্রামেরও কম পরিমাণ লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এই বয়সী শিশুদের বুকের দুধ বা ফর্মুলা প্রয়োজনীয় সব সোডিয়াম সরবরাহ করে।
১ থেকে ৩ বছর: পাটপারগঞ্জের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতারের ইন্টারনাল মেডিসিনের প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর ডক্টর বিজয় অরোরার মতে, এক থেকে তিন বছর বয়সীদের শরীর ছোট থাকে। এ জন্য তাদেরও লবণ কম খাওয়ার প্রয়োজন হয়। এই বয়সীদের দিনে ২ গ্রাম পরিমাণ লবণ (০.৮ গ্রাম সোডিয়াম) খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। যা প্রায় ১/৩ চা চামচের সমান।
৪ থেকে ৮ বছর: শিশুরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের লবণ খাওয়ার চাহিদা কিছুটা বেড়ে যায়। এ জন্য এই বয়সীদের দিনে ৩ গ্রাম পরিমাণ লবণ (১.২ গ্রাম সোডিয়াম) খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তাদের লবণের পরিমাণ কম রাখার পরামর্শ দেয়া হয় এই কারণে যে, তারা নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে থাকে। যাতে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে।
৮ থেকে ১৮ বছর: প্রাপ্ত বয়স্ক শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের লবণ খাওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে তাদের এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। এই বয়সীদের দিনে ৫ গ্রাম পরিমাণ (২ গ্রাম সোডিয়াম) গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়।
Leave a Reply