কর্মব্যস্ত জীবনে সময়মত খাবার খাওয়া-ই হয় না আমাদের। সকালের নাশতা খাওয়া হলে তো দুপুরের খাবার খাওয়া হয় না। আবার দুপুরের খাবার খাওয়া হলেও তা ঠিক দুপুরে হয় না। যা খেতে খেতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল বা সন্ধ্যা হয়ে যায়। যারা দুপুরের খাবার খেয়ে থাকেন, তারাও একেক জন একেক সময় খেয়ে থাকেন। অর্থাৎ, অনেকেই জানেন না কখন দুপুরের খাবার খেতে হয়।
সময়মত খাবার খাওয়া না হলে ছোট ছোট নানা সমস্যা দেখা দেয় শরীরে। খাবার শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহ করে শরীরকে। আর সেই খাবার ঠিকমত খাওয়া না হওয়ার কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা হ্রাস পায়। মন-মেজাজও বিগড়ে যায়। তাই সময়মত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এ জন্য দুপুরের খাবার অবশ্যই দুপুরে খেতে হবে। কিন্তু দুপুরের খাবার কখন খেলে শরীর সুস্থ-সবল থাকবে, তা অজানা অনেকের।
কখন খাবেন দুপুরের খাবার: পশ্চিমারা বেলা ১২টার দিকে দুপুরের খাবার খেয়ে থাকেন। যা তাদের দীর্ঘদিনের রীতি। তবেআমাদের দেশের মানুষের পক্ষে সেটি সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে আমরা যদি দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে খাবার খাই তাহলে সেটি ভালো হয়। এই নিয়মে প্রতিদিন খাবার খাওয়া হলে শরীর যথেষ্ট পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। আপনিও শক্তিশালী হবেন। খাবার হজমেও সমস্যা হবে না। আর ছোট ছোট যেসব অসুখের সম্ভাবনা থাকে, তাও দূর হবে।
সকালের নাশতার ঠিক কতক্ষণ পর দুপুরের খাবার খাবেন: সকালের নাশতা হচ্ছে দিনের আদর্শ খাবার। এই নাশতা ও দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্যে অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মতো বিরতি থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি দুপুর ২টায় খাবার খাওয়ার অভ্যাস করেন, তাহলে সকালের নাশতা মোটামুটি সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সেরে নিতে পারেন। নাশতা ও দুপুরের খাবারের মধ্যবর্তী সময় চাইলে অল্প ফ্রুট সালাদ খেতে পারেন। এতেও পুষ্টির ঘাটতি দূর হবে।
খাবার নিয়ে সচেতন হতে হবে: সকালে যারা ভারী খাবার খেয়ে বাসা-বাড়ি থেকে বের হয়ে থাকেন, তাদের দুপুরের দিকে হালকা কিছু খাওয়া প্রয়োজন। এতে শরীর যথেষ্ট কর্মচঞ্চল ও চাঙা থাকবে। আবার যারা দুপুরের দিকে বাড়িতে থাকেন, তারা সকালের নাশতায় হালকা খাবার খেলেই যথেষ্ট। এতে দুপুরে ভারী খাবার খাওয়ায় সমস্যা হবে না। যেভাবেই খাবার খাওয়া হোক না কেন, সকালে ও দুপুরের খাবারের মধ্যে সমতা থাকা চাই।
Leave a Reply