শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী দেশ মেরামতে সরকার থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে : প্রধানমন্ত্রী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক-শেহবাজের প্রথম বৈঠক, সম্পর্ক নিয়ে যে বার্তা দিল পাকিস্তান জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় ৪ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান বিশ্বশান্তি ও মানবতার পক্ষে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন বিরোধী দল পালামেন্টে সুন্দর সুন্দর কথা বলেন বাইরে ৭১ রুপ ধারণ করে : শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সৌদি আরবের নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠকে বসছে মক্কা জোট

বয়োজ্যেষ্ঠদের ‘স্বর্ণযুগের’ মর্মান্তিক বাস্তবতা উঠে এসেছে গবেষণায়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৬৫ বার

বেশিরভাগ বয়োজ্যেষ্ঠ তাদের বর্ধিত জীবন বা শেষ বয়সে একাধিক দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগে ভুগছেন। যদিও আয়ুষ্কাল বাড়ছে, তবে অনেকেরই সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে বেঁচে থাকার সময়কাল বা হেলথস্প্যান কমছে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং স্বাস্থ্যসেবাজনিত খরচও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘায়ু অর্জনের চেয়ে এখন স্বাস্থ্যকর জীবনধারণ নিশ্চিত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে দীর্ঘায়ু পাওয়া মানুষের পেছনে একটি অতিরিক্ত খরচও রয়েছে।
মানুষের গড় আয়ু উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার কারণে। আগের তুলনায় এখন মানুষ অনেক বেশি দিন বেঁচে থাকছেন। কিন্তু এই দীর্ঘ জীবনের বাড়তি বছরগুলো কে কতটা সুস্থভাবে বাঁচছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জামা নেটওয়ার্ক ওপেন-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি। আয়ুষ্কাল (লাইফস্প্যান) ও সুস্থ জীবনকাল (হেলদিস্প্যান) এর মধ্যে একটি ক্রমবর্ধমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে। খবর দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এই ব্যবধান এখন সাড়ে ৯ বছরের কিছু বেশি (৯.৬ বছর)। অর্থাৎ, শেষ বয়ষে বা প্রায় শেষ এক দশক ধরে মানুষ দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতায় ভুগছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এই চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সেখানে জীবনকাল এবং সুস্থ জীবনকালের মধ্যে ব্যবধান ১২.৪ বছর। এই হার গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত সব দেশের চেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকেরা তাদের শেষ বয়সে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাস্থ্যগত জটিল সমস্যায় ভুগছেন। গবেষকরা এটিকে ‘স্বর্ণযুগের’ একটি মর্মান্তিক বাস্তবতা বলে বর্ণনা করেছেন। যেখানে জীবনের বাড়তি বছরগুলো স্বাস্থ্যহীনতার বোঝায় ভারাক্রান্ত।
এই ব্যবধানটি অবশ্যই লিঙ্গভিত্তিকও। নারীরা সাধারণত পুরুষদের চেয়ে বেশি দিন বাঁচে, কিন্তু তাদের অতিরিক্ত সময়ের বেশিরভাগই কাটে রোগাক্রান্ত অবস্থায়। বিশ্বব্যাপী এই ব্যবধান নারীদের জন্য ২ দশমিক ৪ বছর বেশি। আর জার্মানির মতো কিছু দেশে এই ব্যবধান আরও বেশি। সেখানে নারীরা পুরুষদের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ বছর বেশি সময় অসুস্থতায় ভুগে থাকেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে এই ব্যবধানের কারণগুলো। যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও মাদকাসক্তি। এগুলোর পরেই রয়েছে আর্থ্রাইটিস (হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ), পিঠের ব্যথা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা যা চলাফেরার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এসব সমস্যার প্রকোপ বেশি, যা তাদের দীর্ঘজীবন ও সুস্থ জীবনের মধ্যে ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো: যেসব দেশে গড় আয়ু বেশি, সেসব দেশেই স্বাস্থ্যকাল ও জীবনকালের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে বেশি। এটি নির্দেশ করে যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে জীবনকাল বাড়লেও পরবর্তী জীবনের স্বাস্থ্যগতমান উন্নত হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে আরও গুরুত্ব দেয়া জরুরি বলে গবেষকরা মন্তব্য করেছেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories