কালোজিরাকে অনেকে সব রোগের ঔষধ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন এবং তা নিয়মিত খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ফলে অন্যান্য সব ভেষজের মতো কালোজিরা নিয়েও বিস্তর আলোচনা ও গবেষণা চলছে।
১৯৬০ সালে মিশরের গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, কালোজিরায় বিদ্যমান নাইজেলনের কারণে হাঁপানি উপশম হয়। এছাড়া গবেষকরা কালোজিরার টিউমার প্রতিরোধী প্রভাব সম্পর্কে মতামত দেন। শরীরে ক্যান্সার উৎপাদন অর্থাৎ ফ্রি-রেডিকেল দূর করতে সাহায্য করে থাকে এ ভেষজটি। আসুন জেনে নেই কালোজিরার গুণাগুনের কথা।
১) বুকের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধিঃ সন্তান প্রসবের পরে অনেক মা বুকের দুধের স্বল্পতা অনুভব করে থাকেন। এ সকল মায়েরা যদি প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালোজিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে নিয়মিত খান। দেখবেন সন্তান প্রসবকালীন পরবর্তী ১০-১৫ দিন পরেই বুকের দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। চাইলে কালোজিরার ভর্তা করেও খেতে পারেন।
২) স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলাঃ নিয়মিত কালোজিরা খেরে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। ফলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়, প্রাণশক্তি বাড়ায় ও ক্লান্তি দুর করে।
৩) হজমের সমস্যাঃ যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা প্রতিদিন দু-তিন বার ১-২ চা-চামচ কালোজিরা বেটে পানির সঙ্গে খেতে থাকুন। দেখবেন এক মাসের মধ্যে হজম শক্তি বেড়ে গেছে। পাশাপাশি পেট ফাপা ভাবও হাপিস হয়ে যাবে।
৪)মাথা ব্যথা উপশম করেঃ যাদের নিয়মিত মাথাব্যথা হয়ে থাবকে বিশেষ করে টেনশানজনিত তারা কপালের দুদিকে এবং কানের পাশে দিনে ৩-৪ বার কালোজিরার তেল মালিশ করুন। দেখবেন মাথা ব্যথা ঠিক হয়ে যাবে।
৫) লিভার ক্যান্সারেও কাজ করেঃ আফলাটক্সিন নামক যে বিষ লিভার ক্যান্সারের মাধ্যমে লিভার সেলকে ধ্বংস করে থাকে তাকে নষ্ট করে দেয় কালোজিরা। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাই চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো কালোজিরা খেতে পারেন।
৬) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিতভাবে প্রতিদিন সকালে আধা চামচ পরিমাণ কালোজিরা এক গ্লাস পানির সঙ্গে খালি পেটে খেতে থাকুন। দেখবেন রক্তে সুগারের পরিশাণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
৭) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কালোজিরার তেল ভর্তা-ভাতের সাথে খেতে পারেন। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৮) জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশিতেঃ এখন শীতের সময়। তাছাড়া করোনার প্রভাবও চলছে। এ সময়ে তাই জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশিতে ১ চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু ও ২ চা-চামচ তুলসি পাতার রস মিশিয়ে প্রতিদিন একবার সেবন করুন। বুকে ও পিঠে কালোজিরার তেল মালিশ করুন। তাছাড়া পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে কালোজিরা বেধে শুকলে শ্লেষ্মা তরল হয়ে বের হয়ে যাবে।
৯) চুল পড়া রোধঃ নিয়মিত ভাবে কালোজিরা খেলে আপনার চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হবে। আপনি চাইলে চুলের গোড়ায় এ তেল মালিশও করতে পারেন।
ডা. নিরুপম মন্ডল , খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
Leave a Reply