মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আমি কখনোই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাইনি: আফরোজা আব্বাস যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষম হবে না: ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা গ্রহণযোগ্য কি না, স্পষ্ট করল ইরান পুলিশের পোশাকে ফের পরিবর্তন, ফিরছে গাঢ় নীল-অলিভ রং আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা: আপিল শুনানি ২৮ এপ্রিল দেশে ১.২২ লাখ টন ডিজেল মজুত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘড়ি-বোর্ড নিতে না দেয়ায় অভিভাবকদের অসন্তোষ প্রশ্নফাঁস হয়নি, কঠোর নজরদারিতে চলবে পরবর্তী পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী চ্যাম্পিয়নস লিগের সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে দু’মেরুতে আনচেলত্তি ও সুপার কম্পিউটার বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগে অভিনেত্রী নুসরাতকে তলব

হালুয়াঘাটে স: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন ও নৈশ প্রহরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার। এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি

সমীর সরকার, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৩০৪ বার

১৩ নভেম্বর সকালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট দঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি একটি শ্রেনী কক্ষ থেকে স্কুলের পিয়ন ও নৈশ প্রহরী রিপন চন্দ্র হুড়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
জানা যায়, ১২ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় রিপন হুড় বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের একটি শ্রেনী কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে বিদ্যালয়ের জানালার পর্দা দিয়ে ফাঁস দেয়া ও ঝুলন্ত অবস্থায় তার শিশু কন্যা রিপনের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে তার মাকে খবর দেয়। এ খবর শোনে রিপনের স্ত্রী এবং আত্বীয় স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দ্বিতল ভবনের একটি শ্রেনী কক্ষের দরজা খোলা অবস্থায় রিপনের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান। এ ঘটনার পর বিষয়টি এলাকাজুড়ে জানাজানি হলে রিপন হুড়ের এহেন মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যসহ ধুম্রজাল সৃষ্টি হয় এবং তাকে কেউ শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখেছে নাকি সে আত্বহত্যা করেছে ? এ নিয়ে আত্বীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
একটি সূত্র জানা যায়, রিপন হুড়, উত্তর খয়রাকুড়ি গ্রামের মৃত সুবোধ চন্দ্র হুড়ের ২ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় রিপন চন্দ্র হুড়। ব্যক্তিগত জীবনে সে বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। সে হালুয়াঘাট দঃ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ও নৈশ নিরাপত্তা কর্মী ।
সূত্রটি আরো জানা যায়, ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাতে বাড়িতে আর ফিরে না আসায় ১৩ নভেম্বর সোমবার সকালে নিহত রিপন হুড়ের নয় বছর বয়সী এক মাত্র কন্যা বাড়ি থেকে স্কুলের চাবি নিয়ে গিয়ে স্কুলে শ্রেনী কক্ষের দরজা জানালা খুলতে থাকে। এক পর্যায়ে দ্বিতল ভবনের সর্বশেষ শ্রেনী কক্ষের দরজাটি খুলতে গিয়ে দেখতে পায় দরজাটি খোলা এবং তার বাবার ফ্যানের সাথে গলায় জানালার পর্দা পেচানো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এ সময় সে তার বাবাকে ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বাবার পকেটে থাকা বন্ধ মোবাইল ফোন নিয়ে ফোনটির সুইস অন করে তার মাকে বিষয়টি জানায়। মেয়ের কাছে এমন খবর শোনে রিপনের স্ত্রী এবং বাড়ির লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থেল ছুটে আসে এবং রিপনের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আশেপাশের গ্রামসহ উত্তর খয়রাকুড়ি গ্রামের শতশত নারী-পুরুষ, শিশু- কিশোর, বৃদ্ধ-বর্ণিতা এবং আত্বীয় স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে ভীড় জমায়। খবর পেয়ে স্কুল প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিনসহ হালুয়াঘাটের উপ-সহকারী পুলিশ সুপার, থানার অফিসার্স ইনচার্জ ও থানার দুজন এস আইসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থেল এসে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবের্গর উপস্থিতিতে মৃতদেহের সুরতাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদেন্তর জন্য লাশ ময়মনসিংহে মর্গে প্রেরণ করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা হাসান, পৌর মেয়র খায়রুল আলম ভূঞা, হালুয়াঘাট আর্দশ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল ওয়াহাব, এটিও রতন দাস এবং বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলের প্রধানগন, বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুল মান্নান, কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন লিমনসহ অনেকেই ছুটে আসেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপন হুড় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সুদে এবং হাওলাদ করে মোটা অংকের টাকা এনে ঋনগ্রস্থ হয়ে পরে এবং পাওনাদারদের চাপে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু আত্বহত্যা করার মতো মানুষ সে নয়। তাদের ধারনা, তাকে কে বা কারা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্কুলের শ্রেনী কক্ষের ফ্যানের সাথে জানালার পর্দা দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। এদিকে বাবার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখার পর থেকে রিপন হুড়ের একমাত্র শিশু কন্যা ভীত এবং অনেকটা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে বলে তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
হালুয়াঘাট থানার অফিসার্স ইনচার্জ সুমন রায় জানান, এটি হত্যা না আত্বহত্যা সে বিষয়ে এ মূহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। ঘটনাটির বিভিন্ন দিগ বিবেচনা করে মামলা নেয়া হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories