সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও মাদ্রাসার শিক্ষক

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২
  • ৯০ বার

কুমিল্লা ব্রাক্ষণপাড়া শশীদলে নতুন কৌশল অবলম্বন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা নিয়ে পরিবার নিয়ে উধাও হয়ে গেলেন শশীদল আনন্দপুর মাদ্রাসার শিক্ষক হেলাল উদ্দিন।
হেলাল উদ্দিন (৪৫) কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আনন্দপুর আলেক মেম্বার বাড়ির মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে।
ঘটনা সুত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্রাক্ষণপাড়া শশীদল ইউপির আনন্দপুর গ্রামের দানশীল এবং পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন ব্রাক্ষণপাড়া শশীদল গ্রামের আনন্দপুর গ্রামের মাদ্রাসার শিক্ষক হেলাল উদ্দিন। সাধারণ মানুষ তাকে বিশ্বাস করতেন মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে সম্মান করতেন। সাধারণ মানুষের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বেছে প্রতারণার নতুন কৌশল। এলাকার বা তার পরিচিত যাকে যেভাবে বলে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে কখনও ব‍্যাবসায়ীক পার্টনার করে , কখনও ভাইকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে, জমি ক্রয়, গরুর ফার্ম, ফ্ল্যাট বিক্রয়সহ পরিবারের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে এলাকাবাসীর সঙ্গে নতুন কৌশল অবলম্বন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকার মানুষদের মাঝে চরম হাহাকার শুরু হয়েছে। তার ঘরে এখন তালা ঝুলছে। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এনিয়ে পাগলের মত ছুটে আসে তার বাড়িতে শত শত মানুষ।

ভুক্তভোগীরা জানান, হেলাল উদ্দিন আমাদের এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। সে মাদ্রাসায় শিক্ষকগতা করেন। বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয় দিয়ে চলতেন। কখনও কখনও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করতেন। গত বুধবার তার থাকার ঘরে তালা বন্ধ করে স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানের কথা বলে পালিয়ে যান। তারা জানান, এলাকায় তিনি শিক্ষক হিসাবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে মানুষের বিভিন্ন আপদ বিপদে এগিয়ে যেতেন এবং মানুষের আস্থা অর্জন করেন। এটা ছিল তার প্রতারণার একটা কৌশল। ছোট ভাইকে চাকরি দিবেন, গরুর খামার দিবেন, ফ্লাট ব্যবসা করেন, জমি কিনতে ও ব্যবসা করতে টাকা দেয়ার কথা বলে তিনি গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন। হেলাল উদ্দিনের প্রতারণার হাত থেকে বাদ পড়েননি বিধবা সাহেদা খাতুন। সাহেদা খাতুন বলেন, আমার একটা ভাঙ্গা ঘর আছে। আমার স্বামী নাই। আমি খুব কষ্ট করে আমার সন্তানদেরকে নিয়ে চলাফেরা করি। হেলাল আমার কাছে থেকে ৩ লাখ টাকা নগদ নিয়েছকিছুদিন পর সে আবার আসে আমার কাছে টাকার জন্য। আমি বলেছি আমার কাছে যা ছিল সব সম্বল আমি আপনাকে দিয়ে দিয়েছি। আপনাকে দেওয়ার মত আমার আর কিছুই নাই। পরে সে বলে কিস্তি তুলে দেওয়ার জন্য। সে কয়েকটা কিস্তি মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যায়। সে বলেন কিস্তি সে চালাইবে। এ বলে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। একই এলাকার সালমা আক্তার বলেন, একই কৌশলে আমার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ এবং কিস্তির মাধ্যমে ৫ লাখ মোট ৬ লাখ টাকা নিয়েছে। লুৎফা আক্তার জানান, হেলালকে টাকা দিয়ে আমার সংসার এখন ভেঙ্গে যাওয়ার পথে। আমার স্বামীর আমাকে অনেক মারধর করেছে। শুধু মাত্র তাকে টাকা দেওয়া জন্য। তারপরেও আমার স্বামীর প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি যেন আমার টাকাটা ফিরে পাই আপনাদের এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি। যদি টাকা না পাই তাহলে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ নেই। তাদের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি রিস্কা চালক তাজুল ইসলাম। সে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন যাবৎ রিক্সা চালান। তার কাছ থেকেও বিভিন্ন মাধ্যমে তার স্ত্রী সেলিনা বেগমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আব্দুল আউয়ালের স্ত্রীর সাজেদা বলেন, ৫ লাখ ৫০ হাজার, কুলসুম আক্তার ৭ লাখ, মাসুমা আক্তার তিনটি কিস্তির মাধ্যমে বিভিন্ন অংকে মোট ৫ লাখ, কোহিনুর আক্তার ৩ লাখ টাকা নিয়েছে হেলাল উদ্দিন। তানিয়া আক্তার, নাজমা আক্তার, সুমি, রাবেয়া আক্তারসহ আরও প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ জনের কাছে থেকে একই কৌশলে বিভিন্ন অংকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হেলাল উদ্দিন। একই এলাকার প্রবাসি স্ত্রী নাজমা আক্তার বলেন, আমার কাছ থেকে ভাইকে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি আমার টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমাকে পথের ফকির করে দিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, আমার মেয়ের বিয়ের টাকাও সে বিভিন্ন কথা বলে আমার কাছ থেকে নিয়েছে। আমার স্বামী বিদেশে থাকে। স্বামী রোজগার করার সব টাকা তার কাছে এখন কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোনো পথ নেই। এখন আমি আপনাদের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেবের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। এ বিষয়ে তার মা মাফিয়া খাতুন বলেন, বাবা রে আমি তেমন কিছুই জানি না। কিছু দিন আগে আমাকে নিয়ে ২ জন মহিলার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা আনছে বাবা সে আমাদের কারোর কথা শুনে না। এখন সে কোথায় আছে জানি না। ইউপি সদস্য হানিফ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমাকে এবিষয়ে কিছু জানায়নি। আমি আপনার কাছে থেকে শুনলাম। শশীদল ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক হেলাল টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে আমি বলতে চাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করবো সে যেন বিদেশ না যেতে পারে। সে যেখানেই থাকুক তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনার জন্য। আমি চেয়ারম্যান হিসাবে যতটুকু সহযোগিতা করার করবো।

ব্রাক্ষণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, এখন পযর্ন্ত এরকম কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছ থেকে জানলাম। যদি আমি অভিযোগ পাই অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories