সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলা সফরে তারেক রহমান জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা তো স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি: প্রধানমন্ত্রী বাবা-শ্বশুরসহ একই পরিবার থেকে বিএনপির তিন এমপি সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা ইসলামাবাদ যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধি দল, থাকছেন যারা পাকিস্তানে ৬ মার্কিন সামরিক বিমান, আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার রাবিতে খাবারের দোকানে অভিযান, ৩২ হাজার টাকা জরিমানা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের স্কোয়াড ঘোষণা বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে যা বললেন কনকচাঁপাদেশের সাইটে প্রতারণার বিরুদ্ধে কড়াকড়ি আনছে গুগল

মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ীর দিঘিরপাড় ও হাসাইলে ৪ ড্রেজার দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। প্রশাসন নিরব

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
  • ১০২ বার

মুন্সীগঞ্জের টংঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় পদ্মা নদীর শাখা নদী।দিঘিরপাড় থেকে নওপাড়া যেতে শরিয়তপুরের প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয় প্রকল্প ঘেষে টংগীবাড়ীর সীমানা ঘেষে ২টি ড্রেজার দিনে এবং ২টি ড্রেজার রাতে দেদারছে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র।দীঘিরপাড় মাঝের চর,নড়িয়া গুচ্ছ গ্রাম ভেঙ্গে যাচ্ছে।বালু দস্যুদের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে দিঘিরপাড় বাজারও বিলিনের পথে।অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয় প্রকল্পটিও জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙগন রোধ ঠেকানো যাবে না।খুব দ্রুতই মাঝের চর ঘেষে দুটি ড্রেজার দিয়ে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করছে রাতে ১০০ বাল্কহেড ভর্তি করা হয় প্রতিদিন।সোমবার(৪জুলাই) সরোজমিন ঘুরে দেখা যায়,বেপরোয়াভাবে বালু দস্যূরা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে।ফলে নদীর তীব্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছে ভাঙগনও বৃদ্ধি পেয়েছে।টংগীবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের বালুদস্যুতার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।তবে টংগীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী রুমানা তানজিম অন্তরা জানিয়েছেন হাসাইল ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অপরদিকে সহকারি কমিশনার (ভূমি)কে ঘটনাস্থলে পাঠালে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জানিয়েছেন যেখানে বালু উত্তোলন করছে সেই জায়গাটা শরিয়তপুর নড়িয়ায় পড়ছে।আসলে সরিষাবাদন,ছাতক, মাঝেরচর এলাকাটি টংগীবাড়ী উপজেলার মধ্যে পরলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন যেখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেটা শরিয়তপুর পরেছে।শরিয়তপুরের প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
সরিষাবন ও ছাতক এলাকায় ফের দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন।কিন্তু এই ভাঙ্গণ এলাকার ৫শ ফিটের মধ্যেই চলছে অবৈধভাবে নদী হতে বালু উত্তোলন।এতে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।কাটার যন্ত্র দিয়ে পদ্মা নদী হতে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড দিয়ে বিভিন্নস্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।প্রতিদিন কয়েক লাখ ফুট বালু দুটি কাটার যন্ত্র দিয়ে উত্তোলন করে দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।এতে ওই এলাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।দিঘিরপাড় বাজারও ধসে পড়বে খুব দ্রুত।বিগত প্রায় ২০ দিন যাবৎ পদ্মা নদীর ছাতক গ্রাম হইতে অবৈধভাবে এই বালূ উত্তোলন চললেও মানুষ মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।ভূক্তভোগী পরিবারদের অভিযোগ কেউ মুখ খুললেই তাকে খুন করে পদ্মায় ভাসিয়ে দেওয়া হবে এমন ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।সরোজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, সরিষাবন,রাজারচর এলাকার বিস্তির্ণ এলাকা জুড়ে পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।মানুষ ভাঙ্গনকবলিত স্থান হতে দ্রুত ঘরবাড়ি সড়িয়ে নিচ্ছেন।পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রচন্ড স্রোতের তীব্রতায় একে একে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর রাস্তাঘাট।জিএ ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে নদীর পারে তারপরেও ঠেকানো যাচ্ছেনা ভাঙ্গন।টংঙ্গীবাড়ী উপজেলার সরিষাবণ,ছাতক, কান্দাপাড়া,পুুর্ব হাসাইল ও তার আশে পাশের এলাকার বিস্তির্ণ এলাকা জুড়ে এ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।আরও দেখা যায়,পদ্মা নদীর ছাতক এলাকায় নদী হতে খনন যন্ত্র বসিয়ে মাটি কাটছেন জম জম নামের মাটি খনন যন্ত্র।ওই খনণ যন্ত্রের দায়িত্বে থাকা সোহেল সৈয়াল বলেন,দিঘিরপাড়া গ্রামের মিজান খানের খনন যন্ত্র এটি।তিনি আরো বলেন,কাটার যন্ত্র দিয়ে ঠিকমতো বালু উঠছে না।সারাদিনে মাত্র দুই বালহেড মাটি বিক্রি করছেন।এ সময় খনন যন্ত্রের মাধ্যমে বালহেডে মাটি ভরাট করছিলেন তিনি।নদীর পাশে মাটি নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় করছে আরও ৭ থেকে ৮টি বালহেড।একেকটি বালহেডে ১০/১২ হাজার ফুট বালু বহন করা হয়।এভাবে দিন-রাত্রী বালহেডে তুলে প্রতিদিন লাখ লাখ ফুট বালু এ পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে উত্তোলন করে দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।এলাকাবাসী বলেন,মিজান খান,সাবেক কামাড়খাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদার,বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ হালদার,খুকু হালদার ও কলমার মোতালেবসহ আরও কয়েক জন বেশ কয়েক বছর যাবৎ পদ্মা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু কাটছে।এ বালু কাটার কারনে প্রতিবছরই আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে যাচ্ছে।
ছাতক গ্রামের মো:শাহিন বলেন,এর আগে ৭ বার আমাদের বাড়ি নদীতে ভাঙ্গছে।এবার আবার আমার এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।আমিসহ আমার গ্রামের কাদির বেপারী, বাদশা দেওয়ান,মজিবুর দেওয়ান,মোহন খান, মোবারক মুন্সী,মোস্তাফা মিজি,ইব্রাহিমসহ ৮০টি পরিবারের ঘর বাড়ি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে,কামরখাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদারের মুঠোফোন একাধিকবার ফোন করলে তিনি তা রিসিভ করেননি।তবে মিজান খান বালু উত্তলোনের বিষয় অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,ওই খনন যন্ত্র তার না।ওই ব্যবসা অন্য কারো।এসময় তাকে বলা হলে,আপনার স্যালোক স্বীকার করেছেন খনন যন্ত্র আপনার। পরে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।অপরদিকে শামীম মোল্লা জানান,আমার জমি এই দুই গ্রুপ মিলে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।পুলিশ সুপার,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং তদন্তকেন্দ্র দিঘিরপাড় মৌখিক অভিযোগ করেছি।কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নিতে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল বলেন,বিষটি আমি জেনেছি এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories