মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আদাবরে চাপাতি নিয়ে বাড়িতে হামলা: পুলিশি অভিযানে গুলিবিদ্ধ ২, গ্রেপ্তার ১০ ১২ হাজারেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব সদরপুরে ভ্যানের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ১৩ বছরের কিশোরীর মৃত্যু মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩১০০ জীবনসঙ্গীকে বিদায় জানিয়ে অশ্রুসিক্ত মাহাথির: সত্তর বছরের পথচলার আবেগঘন সমাপ্তি নীরবে খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সময় বাড়ল গাজীপুরের টঙ্গীতে জয় নামে এক যুবককে পরিকল্পিত ভাবে কুপিয়ে হত্যা

তনু হত্যা: জামিনে কারামুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার

আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা প্রায় সোয়া ৭টায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।
তিনি জানান, গত রোববার হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে জামিন প্রদান করেন। পরে মঙ্গলবার কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারের তিন মাস ১৪ দিন পর তিনি কারামুক্ত হলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পরদিন হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাকে ঢাকায় পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ডিএনএ পরীক্ষায় নতুন অগ্রগতি : পিবিআই সূত্র জানায়, তনুর পরিধেয় পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনার বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এসব প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)-এর ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দেন।
দুই পলাতকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ : মামলায় পলাতক দুই সন্দেহভাজন—সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিবিআই জানায়, ঘটনার সময় সার্জেন্ট জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে। অন্যদিকে সৈনিক শাহীন আলম কর্মরত ছিলেন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়। বর্তমানে দুজনই পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের মাধ্যমে হাফিজুর রহমানের জামিনের বিষয়টি জেনেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য সন্দেহভাজনকে আটক এবং তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তনুর নমুনার মিল পাওয়া গেছে কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হতাশ তনুর পরিবার : তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্ত হওয়ার খবর জেনে তারা হতাশ হয়েছেন। তার ভাষ্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই প্রধান সন্দেহভাজনের জামিনে মুক্তি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
আট বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত : ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে থানা পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি জানায়, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে সে সময় সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হয়নি।
২০২০ সালের ২১ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে সংস্থাটি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories