আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে পদ পাওয়ায় কুমিল্লার মেঘনায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও দলীয় অভ্যন্তরে ক্ষোভ। বড়কান্দা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান মিয়াকে একই ওয়ার্ডে বিএনপির সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে। এ খবরে স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আলোচনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ জুন বড়কান্দা ইউপি চত্বরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ড বিএনপির এক সভায় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সির উপস্থিতিতে মান্নান মিয়াকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমিন মেম্বারসহ নেতাকর্মীরা। সভায় যখন তার নাম ঘোষণা করা হয়, তখন উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হন। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মান্নান মিয়ার আওয়ামী লীগের পদ-পদবির তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে হামলা-মামলা সহ্য করে দলের পাশে থেকেছেন। অথচ এখন তাদের উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগে থাকা এক নেতাকে বিএনপির দায়িত্বে বসানো হয়েছে, যা ত্যাগী নেতাদের প্রতি স্পষ্ট অবিচার।
বিভিন্ন মহল মনে করছে, বিএনপির ভেতরে এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তৃণমূল ঐক্য ও আস্থা নষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতা থেকে কীভাবে তিনি বিএনপির নেতৃত্বে এলেন, জানতে মান্নান মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা তদন্ত করছি। যদি প্রমাণিত হয় তিনি আওয়ামী লীগ নেতা, তবে কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দলীয় ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এএফম তারেক মুন্সি। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply