শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদাবাজি রোধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ: আইজিপি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক শুরু ঢাকা-কক্সবাজার রোডে নতুন ট্রেন, জেনে নিন সময়সূচি লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ভাইয়ের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট অবরুদ্ধ প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের অফিস স্টাফ পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে গ্রেপ্তার-১ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত রয়েছে: রিজভী সরাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২

সীমান্তে ৫০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষ লক্ষ মানুষ

সমীর সরকার, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১১৫ বার

সীমান্তে এলাকার ৫০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়া উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। এছাড়া ওই দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সূর্নিদিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন বিভাগের কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন।তিনি বলেন, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নারী শিশুসহ প্রায় ৭ শতাধিক মানুষ উঠেছে। তাদের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায় নাই।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে করে দর্শা, মেনংছড়া, বোরারঘাট ও সেওলা নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। পরে রাতেই বিভিন্ন স্থানে নদীর বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মহিষলেটি, ধোপাজুড়া, কড়ইতলী, জুগলী ইউনিয়নের গামারীতলা, জিগাতলা, নয়াপাড়া, ছাতুগাও, কৈচাপুর ইউনিয়নের নলুয়া, জয়রামকুড়া এলাকাসহ গাজীরভিটা বোরাঘাট নদীর পানি বেড়ে সূর্যপুর, সামিয়ানাপাড়া হাজনিকান্দক, আনচিংগি, বোয়ালমারাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়।
এছাড়া ভূবনকুড়া ইউনিয়নের দর্শা, সেওলা ও মেনংছড়া এবং গাজিরভিটা ইউনিয়নের বোরারঘাট নদীর তীরবর্তী বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভোগাই নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ উপচে ও পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে হালুয়াঘাট পৌরশহর ও সদর ইউনিয়নসহ হালুয়াঘাট বাজারের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।


হালুয়াঘাট উপজেলার গাজিরভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান বলেন, তার এলাকার মহাজনিকান্দক, আনচিংগি, বোয়ালমারা এলাকায় পানি বেশি। তবে সকালে পাহাড়ি ঢলে সীমান্তে সড়কের ওপরে তিন ফুট পানি ছিল। এলাকার পুকুরের মাছ সব চলে গেছে। আজ বেলা ১১টার দিকে পানি কমা শুরু করলে আবার বৃষ্টি হওয়ায় পানি বাড়ছে।
একই উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুরুজ মিয়া জানান, গতকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। গতকাল দুপুরের দিকে শেওয়াল ও মেনেং নদীর দুটি অংশের পাড় ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ঘরের ভেতরে পানি না ঢুকলেও বাড়ির উঠানে পানি উঠেছে । এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে, জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ১৫ হাজার ৪৩৮ হেক্টর ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে পুরোপুরি ডুবে গেছে ৯ হাজার ৭৮ হেক্টর জমি, আংশিক ডুবেছে ৬ হাজার ৩৬০ হেক্টর এবং সবজি আংশিক প্লাবিত হয়েছে ১৫৮ হেক্টর। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত শারমিন বলেন, উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। বৃষ্টি বাড়লে পানি আরও বাড়তে পারে। উপজেলায় মোট ৭টি ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া দুটি ইউনিয়ন পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি আছেন।
৭ ইউনিয়নে ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওইটা আনুমানিক বলছি। কারণ, অনেক এলাকায় এখনো কোনো খোঁজখবর নিতে পারিনি। ওইসব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা নৌকার অভাবে সব এলাকায় পৌছাতে পারেনি। এছাড়া, ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই, সঠিক তথ্য এখনো আমরা পাইনি। সঠিক তথ্য পেতে সময় লাগবে। বন্যাদুর্গতদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া আছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, পানি কিছুটা কমে গিয়েছিল। পরে আজ আবারও প্রায় দুই ঘণ্টা বৃষ্টি হওয়ায় পানি বেড়ে গেছে। উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন পুরোপুরি প্লাবিত। নারী-শিশুসহ প্রায় ৭ শতাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া শতাধিক গরু-ছাগলও আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, মৎস্য চাষিদের কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক তথ্য এখনো আমাদের জানা নেই। উপজেলা মৎস্য অফিসারদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories