স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য-ঢাকা : দেশে মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮২২ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১৩ হাজার ২৫৮ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১১৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৫০৩ জনের। আজ বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫৫০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ১৬ হাজার ২৫০ জন। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার করোনায় ১১২ জনের মৃত্যু হয়। করোনার ইতিহাসে সেদিন সর্বোচ্চ ৭,৬৬৬ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন।
খুলনা : এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৭৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গতকাল করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন ১ হাজার ৩৬৭ জন।
বুধবার (৩০ জুন) বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র বলছে, ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় আরটি–পিসিআর ল্যাবে ১ হাজার ৪৮৩ জন, জিন এক্সপার্ট যন্ত্রে ১২১ জন, র্যাপিড অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ১ হাজার ৫৯৬ জনসহ মোট ৩ হাজার ২০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৭ জনের। শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৯১।নতুন করে বাগেরহাটে ৯১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৫৩, যশোরে ২৮১, ঝিনাইদহে ১১৫, খুলনায় ৩৭৭, কুষ্টিয়ায় ১৮৯, মাগুরায় ২৩, মেহেরপুরে ৫৮, নড়াইলে ৪০ ও সাতক্ষীরায় ৫০ জন রয়েছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কুষ্টিয়ায় নয়জন; খুলনায় সাতজন; যশোর ও মেহেরপুরে তিনজন করে; ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায় দুজন করে এবং চুয়াডাঙ্গায় একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে ১৭১ জনের নমুনা কম পরীক্ষা হয়েছে। এর আগের দিন শনাক্ত ছিল ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে ১৭১টি নমুনা কম পরীক্ষা হয়েছে। শনাক্তের হার ছিল ৪০ দশমিক ৫৫।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা কিছুটা কমেছে, তবে শনাক্তের হার প্রায় একই। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিভাগে করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ৭০ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৯০। মোট শনাক্ত ৫৬ হাজার ২৭৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩৮ হাজার ৪০১ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৯৬৪ জন।
রাজশাহী : অপরদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (৩০ জুন) সকালে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন সাতজন।
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৯ জুন) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (৩০ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত রামেকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে পুরুষ সাতজন ও নারী পাঁচজন রয়েছেন। মৃতদের বয়স ৩৫-৬৫ বছরের মধ্যে।’
শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর আটজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুজন, নাটোরের একজন ও নওগাঁর একজন ছিলেন। করোনায় মৃতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
রামেক পরিচালক বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় রামেকে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৫ জন। রামেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৯৩ জন এবং সন্দেহভাজন ও উপসর্গ নিয়ে ২৬৭ জন ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রামেকে ৩৫৭টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলেন ৪৬০ জন।
রংপুর : অন্যদিকে রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মারা গেছেন আরও ৯ জন। বুধবার (৩০ জুন) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবু মো. জাকিরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মৃত ৯ জনের মধ্যে দিনাজপুরের তিনজন, রংপুরের তিনজন, ঠাকুরগাঁওয়ের দুজন এবং গাইবান্ধার একজন রয়েছেন। এ সময়ে বিভাগে নতুন ৪৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে দিনাজপুরে ১৩৬, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮৯, রংপুরে ৮২, লালমনিরহাটে ৩৯, গাইবান্ধায় ৩৯, কুড়িগ্রামে ৩৮, নীলফামারীতে ২৮ এবং পঞ্চগড়ে ২২ জন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৭৩ জন।
স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৯ জুন) বিভাগের আট জেলার ১ হাজার ৫১০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৪৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময় বিভাগের হিলি ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আরও ১০ জন দেশে ফিরেছেন।
করোনাভাইরাস শনাক্তের পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ২৫ হাজার ৯৮০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ৫১৯ জন।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে একদিনে সর্বোচ্চ ২১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়। সংক্রমণের হার ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এর আগে গত ২৬ জুন ১২৯ জন এবং ২০২০ সালের ১৬ জুন জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ১৪৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল বুধবার (৩০ জুন) সকালে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বেড়েছে রোগীর চাপ। সেই সঙ্গে থেমে নেই মৃত্যুর মিছিলও। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জন করোনায় এবং পাঁচ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তারা হলেন- জামালপুরের শ্রীপুরের মজিবুর রহমান (৮৫), শেরপুর সদরের নুরুজ্জামান (৩৫) ও শেরপুরের জংগলদী গ্রামের জালাল উদ্দিন (৮৫)। এছাড়াও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ময়মনসিংহ সদরের আলাল উদ্দিন (৬৪), নাজমুন্নাহার (৩৮), জামালপুর সদরের ওয়াহিদ মিয়া (৭০), নেত্রকোনার কেন্দুয়ার শদ্ধু মিয়া (৫০) ও টাঙ্গাইলের মধুপুরের শাহানাজ (৪৫)।
মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এ ইউনিটের আইসিইউতে ১৩টি আসনের মধ্যে খালি আছে একটি। আর রোগীর চাপ সামলাতে সাধারণ ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা ২১০টি বাড়িয়ে ২৪২টি করা হয়েছে। এখানে রোগী ভর্তি আছে ১৯০ জন। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন। অন্যদিকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৪৫ জন।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ১০ জন। এ সময়ে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩৯৯ জন। করোনা শনাক্তের হার ২৯.২৫ শতাংশ। এ নিয়ে টানা তিন দিন চট্টগ্রামে ৩০০ জনের উপরে করোনা শনাক্ত হলো। বুধবার (৩০ জুন) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামের ৯টি ও কক্সবাজারে একটি ল্যাবে ১ হাজার ৩৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৯৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ২৮৪ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ১১৫ জন রয়েছেন।
তিনি বলেন, উপজেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে, লোহাগাড়ায় দুইজন, বাঁশখালীতে তিনজন, আনোয়ারায় ৯ জন,পটিয়া একজন, বোয়ালখালীতে একজন, রাঙ্গুনিয়ার দুইজন, রাউজানের ২০ জন, ফটিকছড়িতে ৩২ জন, হাটহাজারীর তিনজন, সীতাকুন্ডে ২৪ জন, মিরসরাইয়ে ১৬ জন ও সন্দ্বীপে দুইজন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৭২৪ জন। মোট শনাক্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৪৫ হাজার ৮৬৭ জন। আর জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১২ হাজার ৮৫৭ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০ জন মারা গেছেন। মারা যাওয়া চারজন নগরের বাসিন্দা, আর ছয় জন নগরীর বাইরের বাসিন্দা। করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট ৭০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭৪ জন চট্টগ্রাম নগরীর। আর বিভিন্ন উপজেলায় মারা গেছেন ২২৭ জন।এর আগে মঙ্গলবার (২৯ জুন) চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনজন। ওইদিন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৬৮ জন। করোনা শনাক্তের হার ছিল ২৪.৪৩ শতাংশ।
Leave a Reply