নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার সরকারি সকল দপ্তরের দাপ্তরিক সেবা কার্যক্রম চলছে পুরাতন জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। আবার একই সঙ্গে ভবন সংকট ও প্রতিটি দপ্তরের অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কক্ষ অপ্রতুলতার জন্য চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম।
অনুপযোগী ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, আর সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পরতে হয় সর্বসাধারনের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন অফিস, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস, উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিস, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস, অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। পল্লী দারিদ্র বিমোচন অফিস ও পরিসংখ্যান অফিসে বৃষ্টি হলে ছাদ ছুঁয়ে পানি পড়া ও ১ রুম বিশিষ্ট অফিস হাওয়ায় বৈরি আবহাওয়ায় অফিস কার্যক্রম বন্ধ রাখার মত উপক্রম হয়। তাছাড়া ১ রুম নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত অফিস গুলোর মধ্যে প্রাথমিক- মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সমবায় অফিস, মৎস্য অফিস, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা অফিস, তথ্য কর্মকর্তা অফিস এবং ২ রুম নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা অফিস গুলোর মধ্যে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস, সমাজ সেবা অফিস, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস, উপজেলা এলজিইডি অফিস, উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস।
কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসারের জন্য কোন অফিসই বরাদ্দ নেই। এক রুমে একাধিক কর্মকর্তা/ কর্মচারী বসে প্রতিকূলতার মধ্যে সেবা দিতে হয়। ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কোনো কোনো দপ্তরে সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। আবার খসে পড়ছে ছাদের প্লাস্টারও।
এর মধ্যে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে নিরাপদ বেষ্টনী ও সুরক্ষা দেয়ালের অভাব।
পরিসংখ্যান অফিসে সেবা নিতে আসা আদমপুর গ্রামের অপূর্ব চৌধুরী বলেন উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস খোঁজে পেতে অনে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. অলিদুজ্জামান বলেন, খালিয়াজুরী উপজেলা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে বর্তমান দাপ্তরিক অফিসের বিল্ডিংগুলো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব বিল্ডিং গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কয়েকটি বিল্ডিং পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও কক্ষ কম থাকায় জীবনের ঝুঁকি অফিস করতে হচ্ছে। উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রস্তাব ও জায়গা নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও জায়গার কাগজপত্রে জটিলতা থাকায় টেন্ডার প্রক্রিয়ার জন্য কোন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া আনসার সদস্যদের আবাসিক সমস্যা ও হলরুমে সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নসহ বেশ কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
Leave a Reply