বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রমে ট্রাকের ধাক্কায় গাজীপুরে অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হবে কি না সিদ্ধান্ত হয়নি: রেলমন্ত্রী এ বছর নয়, আগামী বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগের হানা, ক্রমেই বাড়ছে সংক্রমণ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৪০ বার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে হানা দিয়েছে মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত ‘হোয়াইট প্লেগ’ বা যক্ষ্মা। যা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) চেয়েও মারাত্মক এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘হোয়াইট প্লেগ’ বা যক্ষ্মার সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। যা তিন দশকের পতনকে আবারও পাল্টে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে এটি বিশ্বের এক নম্বর সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে নিজের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। যদিও দেশটিতে ‘হোয়াইট প্লেগ’ এখনও বিশ্বব্যাপী সর্বনিম্ন হারগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) অস্থায়ী তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশব্যাপী ১০ হাজার ২৬০টি যক্ষ্মার সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র নিউইয়র্কেই ৯৬৭টি সংক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মূলত, ‘হোয়াইট প্লেগ’ বা যক্ষ্মার লক্ষণগুলোকে প্রায়ই ফ্লু বা আরএসভি’র মতো সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। এর ফলে প্রাণঘাতী রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে বা রোগটি ধরা পড়ার পর চিকিৎসায় বিলম্ব হয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বড় একটি সমস্যা। যক্ষ্মা যত বেশি দিন ধরে শনাক্ত না হয়ে থাকবে, তত বেশি এটি ছড়াতে পারে এবং এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোর ওষুধের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার ঝুঁকি তত বাড়বে। যেটি প্রাণঘাতী এই রোগের চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলবে। তবে স্বস্তির কথা হলো- ‘হোয়াইট প্লেগ’ বা যক্ষ্মা প্রতিরোধযোগ্য এবং সঠিক চিকিৎসায় অনেকেই প্রাণঘাতী এই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
‘হোয়াইট প্লেগ’ বা যক্ষ্মা কী এবং এর লক্ষণ
‘হোয়াইট প্লেগ’ বা যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত ফুসফুসকে আক্রমণ করে। তবে এটি কিডনি, মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি মূলত বায়ুবাহিত রোগ, যা ‘মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস’ নামের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশলে, হাঁচি দিলে বা কথা বললে বাতাসের ক্ষুদ্র ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি অন্যকে সংক্রমিত করে।
প্রাণঘাতী এই রোগটির প্রধান দু’টি অবস্থা দেখা যায়। এরমধ্যে একটিতে যক্ষ্মার উপসর্গ প্রকাশ পায় এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়াতে পারে। এই অবস্থায় চিকিৎসা না করালে, ফুসফুসে সক্রিয় এই রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি প্রতি বছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ জনকে সংক্রমিত করতে পারে, বিশেষ করে যাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ থাকে, যেমন পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা।
অন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থায় রোগটির উপসর্গ সুপ্ত থাকে, প্রকাশ পায় না। এই অবস্থায়, ব্যাকটেরিয়া শরীরে নিষ্ক্রিয় থাকে। এর অর্থ হলো আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো উপসর্গ থাকে না এবং তিনি সংক্রমণ ছড়াতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে যদি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ব্যাকটেরিয়াকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারে, তাহলে সংক্রমণটি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি’র অনুমান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ সুপ্ত যক্ষ্মা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান অবস্থায় দেশব্যাপী ৮০ শতাংশেরও বেশি যক্ষ্মা রোগী দীর্ঘস্থায়ী ও চিকিৎসাবিহীন সুপ্ত সংক্রমণের সক্রিয় হয়ে ওঠার ফল।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories