রোজা হোক বা সাধারণ দিনের স্বাস্থ্যকর নাশতা খেজুর অনেকেরই পছন্দের ফল। প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এই ফল শরীরের জন্য বেশ উপকারী। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের অনেক সময় প্রশ্ন থাকে—খেজুর কি খাওয়া যাবে? আর খেলে কোন ধরনের খেজুরটি তুলনামূলক নিরাপদ? গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে খেজুর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সব ধরনের খেজুর ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সমান উপযোগী নয়। জেনে নেয়া যাক জনপ্রিয় ৮ ধরনের খেজুর ও তাদের বৈশিষ্ট্য।
‘নবীর খেজুর’ নামে পরিচিত এই খেজুর বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে এতে চিনির পরিমাণ মাঝারি হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
‘খেজুরের রাজা’ নামেও পরিচিত এই খেজুর। এটি বড়, নরম ও অত্যন্ত মিষ্টি। এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে এতে প্রাকৃতিক চিনি তুলনামূলক বেশি (প্রায় ৬৬–৭০ গ্রাম প্রতি ১০০ গ্রাম), তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি খাওয়া ঠিক নয়।
এটিকে বলা হয় ‘খেজুরের রানী’। মাঝারি মিষ্টি স্বাদের এই খেজুরে ফাইবার বেশি এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম। হজমে সহায়তা করে এবং পেট ফাঁপা কমাতে পারে। পরিমিত পরিমাণে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলক ভালো বিকল্প।
এই খেজুর খুবই নরম ও মাখনের মতো স্বাদের। এতে প্রিবায়োটিক উপাদান থাকে, যা অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এতে চিনি বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী নয়।
সোনালি আভাযুক্ত এই খেজুরের টেক্সচার আধা-শুকনো। এতে ভিটামিন এ ও ফাইবার বেশি, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম (৩৫–৫০), তাই পরিমিত খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
ব্রেড ডেট’ নামেও পরিচিত এই খেজুরের স্বাদ হালকা মিষ্টি ও বাদামের মতো। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম (৩৫–৪৫) এবং চিনির পরিমাণও তুলনামূলক কম। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি তুলনামূলক ভালো বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।
গাঢ় বাদামি রঙের এই খেজুরে আয়রন বেশি থাকে, যা রক্তস্বল্পতা ও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে প্রায় ৬০ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও ফাইবারও যথেষ্ট থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়াতে সাহায্য করে।
খেজুর পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল হলেও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে থুরি, জাহিদি এবং ডেগলেট নূর খেজুর তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের হওয়ায় ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে যেকোনো ধরনের খেজুরই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সঠিক পরিমাণে খেলে খেজুর হতে পারে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি স্বাস্থ্যকর খাবার।
Leave a Reply