বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম নির্ধারণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী গাজীপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ: ভোগান্তিতে যাত্রীরা গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান গ্রেপ্তার ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬ সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহ ভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হাসপাতালে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগসহ ৬ দাবি বিপিএফের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ বার

এন্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্তি, পেশাগত মান উন্নয়ন, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে অবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তিসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম (বিপিএফ)।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের সভাপতি মোঃ আজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আনোয়ার মাজিদ তারেক, প্রচার সম্পাদক মোঃ মমিনুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট নিম্নোক্ত ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে—
১। সকল সরকারি হাসপাতালে হসপিটাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চালু করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ। উন্নত বিশ্বের আদলে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মতে বাংলাদেশের সকল সরকারী হাসপাতালে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী সেবা চাল করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।
২। বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি করতে হবে।
৩। স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন। একটি স্বতন্ত্র ফার্মেসী পরিদপ্তর গঠন করতে হবে, যা হসপিটাল ফার্মেসী এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী কার্যক্রমের কার্যকারিতা এবং মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
৪। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফার্ম ডি প্রোগ্রাম চালু ও বি ফার্ম থেকে পর্যায়ক্রমে রূপান্তর। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী প্রোগ্রামকে বি ফার্ম থেকে ফার্ম ডি -তে রূপান্তর করতে হবে।
৫। সরকারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে “ফার্মাসিস্ট” ও “ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট” পদবির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এবং উন্নত বিশ্বের ন্যায় ফার্মাসিস্ট বলতে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টকেই বুঝায়, তাই ফার্মেসীতে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগের সকল সার্কুলারে “ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট” শব্দটি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৬। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিজিডিএ)-এ ড্রাগ সুপার পদে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং ফার্মেসী কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তিদের অবৈধ ফার্মেসি প্র্যাক্টিস বন্ধ করতে হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি সমূহ তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় দাবি আদায়ে জনসচেতনতা এবং জনমত তৈরির ব্যাপারে আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের সভাপতি মোঃ আজিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ১০,০০০ জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত ১ জন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন এবং উন্নত বিশ্বে প্রতি ২০ শয্যার বিপরীতে ১ জন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ একটি স্বীকৃত মানদণ্ড। অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কোনো পদ নেই, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫,০০০ রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট এবং শিক্ষারতসহ প্রায় ৩৫,০০০ ফার্মাসিস্ট রয়েছে। এই দক্ষ ফার্মাসিস্ট বৃন্দ দেশে-বিদেশে ওষুধ শিল্প, গবেষণা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় তাদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর বলেন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া (ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন) ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে হাসপাতালভিত্তিক ফার্মাসিস্ট নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম এর নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও রোগীকেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories