কর্মব্যস্ত জীবনে সবার সরাসরি ধান থেকে চাল প্রস্তুত করা হয় না। এ কারণে অনেকেই ধান চাষ করলেও সেটি বিক্রি করে বাজার থেকে চাল কেনেন। আবার কেউ কেউ দারিদ্রতা বা ব্যস্ততার কারণেই সরাসরি বাজার থেকে পছন্দের চাল কিনে ভাত রান্না করেন। এরইমধ্যে হয়তো জেনেছেন, ‘প্লাস্টিকের চাল’ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে বাজারে।
বর্তমান প্রজন্মে অধিকাংশ কাজই প্রযুক্তি নির্ভর। এ কারণে খাদ্যপণ্য-সহ বিভিন্ন জিনিসে ভেজাল মেশানোর খবর পাওয়া যায়। এ কারণে চালেও ভেজাল মিশছে কিনা, সেটি নিশ্চিত হওয়া নিয়ে নানা সন্দেহ থাকে অনেক ক্রেতার। আর আগে থেকেই প্রশ্ন, সত্যিই প্লাস্টিকের চাল হয় কিনা? চাল প্লাস্টিকের হলে কীভাবে সেটি বোঝা যাবে? এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তাহলে সেখান থেকে জেনে নেয়া যাক, চাল আসল না নকল সেটি বুঝতে পারার উপায়।
মানুষ কেন চালকে প্লাস্টিক মনে করে:
চালের মান নিয়ে যদি আগে থেকেই উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে ভাতের কিছু নিখুঁত প্রাকৃতিক গুণাবলী সন্দেহজনক মনে হতে পারে। ভাত রান্না করা হলে ভাতের মাড় ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্ত হতে পারে, ফলে দানা ফেলার পর তা লাফ দিয়ে ওঠে। কিছু ধরন প্রাকৃতিকভাবে চাকচিক্য বা স্বচ্ছ হয়। উচ্চ মাত্রায় পলিশ করা সাদা চাল অস্বাভাবিকভাবে চাকচিক্য দেখাতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চাল নিয়ে সন্দেহ জাগতে পারে।
সত্যিই কি চাল পরীক্ষা করা সম্ভব:
এ ক্ষেত্রে সতর্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিভিন্ন ট্রেন্ডিং ট্রিক্স অবিশ্বস্ত বা বিভ্রান্তিকর হয়ে থাকে। পানিতে ভাসমান থাকলে চালের ধরন, বয়স এবং আটকে থাকা বাতাসের ওপর নির্ভর করে সেটি ভেসে বা ডুবে যেতে পারে। তবে শুধু ভাসলেই সেটি নকল বলা যাবে না।
জ্বলন্ত পরীক্ষা:
আগুনের সংস্পর্শে নেয়া হলে চাল কালো হবে এবং পোড়া গন্ধ আসবে। কারণ এটি জৈব। কিছু মানুষ আংশিক গলে যাওয়া বা শক্ত অবশিষ্টাংশকে প্লাস্টিকের প্রমাণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। তবে এটি শুধু ক্যারামেলাইজড স্টার্চ হতে পারে।
পিষে পরীক্ষা করা:
চাল স্বাভাবিকভাবেই শক্ত থাকে। এটি যদি চামচ বা আঙুলের মধ্যে সহজেই গুঁড়া না হয়, তবে এটি সন্দেহজনক হওয়া স্বাভাবিক। যদিও ঘরোয়া এই পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু রাসায়নিক গঠন চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করতে পারে না। শুধু ল্যাব টেস্টই কেবল এটি নির্ধারণ করতে পারে।
খাঁটি চাল চেনার উপায়:
ট্রেন্ডিং ট্রিক্স বা ভাইরাল উপায়ের পেছনে না ছুটে ব্যবহারিক ও দৈনন্দিন পরীক্ষাগুলোয় মনোনিবেশ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত নিয়মগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।
প্যাকেজিং ও সোর্সিং পরীক্ষা করা:
চাল সবসময় স্বনামধন্য ব্র্যান্ড বা স্থানীয় বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন। ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন তারিখ ও খাদ্য সুরক্ষা সার্টিফিকেট-সহ সিল করা প্যাকেটের চাল কিনুন। যদি এসব না থাকে, তাহলে সেসব চাল কেনা এড়িয়ে চলুন।
শস্য পরীক্ষা:
ভালো ধানের দানাগুলো বৈচিত্রের জন্য স্বাভাবিকভাবেই একই আকারের হয়। অল্প পরিমাণ চাল ভাঙা স্বাভাবিক, তবে বেশি পরিমাণ ধুলা বা অদ্ভুত গন্ধ থাকে না।
গন্ধ নেয়া:
ভালো চালের ভাতের মৃদু সুগন্ধ থাকে। তবে চাল যদি হালকা টক, রাসায়নিক বা ময়লাযুক্ত গন্ধ থাকে, তাহলে তা আপনার জন্য নিরাপদ নয়।
রান্নার আগে ধুয়ে নেয়া:
চাল ভালো করে ধুয়ে নিলে স্টার্চ, ধুলাবালি এবং পলিশিংয়ের অবশিষ্টাংশ দূর হয়। এ সময় পানি ঘোলাটে হতে পারে, যা স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত।
অল্প পরিমাণ ভাত রান্না করা:
যদি ভাত রান্নার পর একদমই ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হয়, দীর্ঘক্ষণ রান্নার পরও ভাত শক্ত থাকে, রঙও অদ্ভুত হয় বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হয়, তাহলে ওই ভাত না খাওয়াই ভালো।
বাজারে প্লাস্টিকের চালের যে ধারণা বা আলোচনা হয়, সেটি কেবলই হয়তো মিথ। যা বৈজ্ঞানিক প্রমাণেরে থেকেও ভয়ংকর। এর অর্থ এই নয় যে, খাবারে ভেজাল ঘেটে না। তবে উত্তম উপায় হচ্ছে, সাধারণ কিছু উপায় অবলম্বন করা এবং রান্নায় মনোযোগ দিয়ে বিষয় বুঝতে পারা। কম আতঙ্কের সঙ্গে সচেতনতাই পারে পুষ্টিকর খাবার জোগাতে।
Leave a Reply