বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রমে ট্রাকের ধাক্কায় গাজীপুরে অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হবে কি না সিদ্ধান্ত হয়নি: রেলমন্ত্রী এ বছর নয়, আগামী বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সার্কাডিয়ান রিদম কীভাবে স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে, করণীয় কী? জানালেন পুষ্টিবিদ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩ বার
সার্কাডিয়ান রিদম কীভাবে স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে, করণীয় কী? জানালেন পুষ্টিবিদ

সার্কাডিয়ান রিদম হচ্ছে মানবদেহের প্রাকৃতিক ২৪ ঘণ্টার জৈবিক চক্র। এটি ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে উঠা, হরমোন নিঃসরণ, শরীরের তাপমাত্রা ও বিপাকক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়া আলো ও অন্ধকারের পরিবর্তনের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, যা মস্তিষ্কের ‘মাস্টার ব্লক’ দ্বারা পরিচালিত হয়। আর এই জৈবিক চক্রের ওপর নির্ভর করে একজন ব্যক্তির মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের সক্ষমতা।
সার্কাডিয়ান শব্দটি একটি ছন্দের প্যাটার্ন, যা আলো ও অন্ধকার দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এটি একদিন স্থায়ী হয়। এটি শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন, নির্দিষ্ট হরমোন এবং মস্তিষ্কে কিছু পরিবেশগত কারণ বা ঘুমের কারণে সার্কাডিয়ান ছন্দে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। প্রক্রিয়াটি আমাদের আচরণ, মনস্তাত্ত্বিক এবং আনবিক পরিবর্তনগুলোও প্রভাবিত করতে পারে।
সার্কাডিয়ান রিদম কীভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং এ ক্ষেত্রে করণীয় কী―এ ব্যাপারে বিস্তৃতভাবে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন দিনাজপুরের রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার। তিনি জানিয়েছেন, সার্কাডিয়ান ঘড়ি দুই ভাগে বিভক্ত। এক কেন্দ্রীয় ঘড়ি, অপরটি পেরিফেরাল ঘড়ি। কেন্দ্রীয় ঘড়ি সুপ্রাচিয়াসমেটিক নিউক্লিয়াসে রয়েছে। অন্যদিকে পেরিফেরাল ঘড়ি আমাদের শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে রয়েছে।
সার্কাডিয়ান রিদম কীভাবে কাজ করে:
সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো মস্তিষ্কে একটি সংকেত পাঠায়। ফলে শরীরের অন্যান্য অংশে জেগে উঠার জন্য সংকেত পৌঁছায়। আপনি জেগে উঠলে ধীরে ধীরে পুরো শরীরের প্রক্রিয়াগুলি সক্রিয় হয়। একইভাবে অন্ধকারে শরীরের কোষগুলোও শরীরের সব প্রক্রিয়াকে ঘুমের মোডে রাখার জন্য সংকেত দেয়।
রাতের অন্ধকারে শরীরের মেলাটোনিন তৈরি হয়। কিছু হরমোন সার্কাডিয়ান ছন্দ অনুসারে জেগে থাকে এবং অন্ধকার মোডে বৃদ্ধি পায়। যেমন- মেলাটোনিন এবং কর্টিসল। অন্ধকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর মেলাটোনিন নিঃসরণ করে, যা ঘুমের জন্য দায়ী। মেলাটোনিনের প্রভাব রাতে সর্বাধিক এবং দিনের বেলায় কম কম কাজ করে। আবার কর্টিসল দিনের সময় সর্বাধিক এবং রাতে সময় দমন করে। মেলাটোনিন বা কর্টিসলের ব্যাঘাত ঘটলে সার্কাডিয়ান ছন্দের পরিবর্তন হতে পারে।
মানবদেহে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সার্কাডিয়ান ছন্দের পরিবর্তনের কারণে বিপাকীয় হার ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন- ঘুমানোর সময় শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে তা ঘুমের ধরনকে প্রভাবিত করবে। এ জন্য ঘুমানোর আগে ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে রাখা সবসময় ভালো, যা ভালো ঘুম নিশ্চিত করে। আবার প্রতিটি বয়সের একটি ভিন্ন সার্কাডিয়ান ছন্দ রয়েছে। যেমন- নবজাতকের একটি নির্দিষ্ট সার্কাডিয়ান ছন্দ বিকাশ করতে কয়েক মাস সময় লাগে। শিশুরা প্রায় ৩ মাস বয়সে মেলাটোনিন এবং ২ থেকে ৯ মাস বয়সের মধ্যে কর্টিসল নিঃসরণ শুরু করে। কিশোর-কিশোরীদের সার্কাডিয়ান ছন্দে কিছুটা পরিবর্তন হয়।
সার্কাডিয়ান রিদমের গ্লুকোজ বিপাকের সঙ্গে সম্পর্ক কী:
সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, একটি অনিয়মিত খাবারের সময়, দেরীতে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য এবং গভীর রাতে আলোর এক্সপোজার, অনিয়মিত ঘুমের ধরন ইত্যাদি উচ্চ গ্লুকোজের মাত্রা এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা হ্রাস করে। উচ্চ গ্লুকোজের মাত্রা উচ্চ রক্ত শর্করা বা হাইপারগ্লাইসেমিয়ার মতো গুরুত্বর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া উচ্চ গ্লুকোজের মাত্রা শারীরিকভাবে হার্টের সমস্যা, স্ট্রোক, কিডনি, ত্বকের সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি, এমনকি চোখের ক্ষতির মতো জটিলতা সৃষ্টি করে স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। হার্ভাড দ্বারা পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের পরিবেশ বা আচরণের তুলনায় শরীরের গ্লুকোজের ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আমাদের সার্কাডিয়ান ছন্দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কয়েকটি গবেষণায় একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও ঘুম নিয়ে অনুসরণ করা হয়েছিল। এখানে রাতে জেগে থাকা এবং দিনে ঘুমাতে যাওয়া লোকদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে গ্লুকোজ সহনশীলতা রেকর্ড করা হয়। পর্যবেক্ষণে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার থেকে ১৭ শতাংশের বেশি পাওয়া যায়। যা থেকে এটি স্পষ্ট, যখন একটি নিয়মের ব্যাঘাত ঘটে তখন এটি স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলে। আবার যখন এটি দীর্ঘসময় ধরে এভাবে চলতে থাকে, তখন শরীরে সার্কাডিয়ান ছন্দের পতন ঘটে, যা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।
সার্কাডিয়ান ছন্দের গুণমানকে প্রভাবিত করার কিছু কারণ রয়েছে। যেমন- রাতে খুব বেশি আলোতে থাকা, যা দিনের বেলা যথেষ্ট নয়। আবার কাজের শিফটের কারণে অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি। গভীর রাতে খাবার খাওয়া। আজকাল অধিকাংশ লোক রাতে কাজ করে ডিভাইসে, ফলে সকালে ঘুম থেকে দেরিতে উঠা হয় এবং সূর্যের আলোয় কম থাকার কারণে প্রাকৃতিক ঘড়ি সার্কাডিয়ান ছন্দের ব্যাঘাত ঘটায়। এ জন্য কিছু জটিলতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সার্কাডিয়ান রিদম মানুষের টাইপ-টু ডায়াবেটিস হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা কম আলোয় থাকেন, তাদের বিএমআই বেশি এবং অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনের আলোর এক্সপোজার কম পায়, তাদের ৫১ শতাংশ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে। একইভাবে যারা ৬ ঘণ্টার কম ঘুমায় বা দেরি করে ঘুমায়, রাতে জেগে থাকে বা রাত জেগে কাজ করে, সকালে দেরিতে উঠে, তাদের রক্তে শর্করার ওপর বিপাকীয় প্রভাব পড়ে, যা সার্কাডিয়ান ছন্দের ব্যাঘাত ঘটায়।
কর্মব্যস্ত জীবনে প্রায় সবাই কাজের পরিকল্পনা করতে ২৪ ঘণ্টা অনুসরণ করেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় ভুলে যাওয়া হয়, শরীরও সার্কাডিয়ান রিদম নামে একটি ঘড়ির ধরন অনুসরণ করে। এই অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলে, যা নানা রোগের বিকাশ ঘটায়।
করণীয়:
সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য একজন মানুষের প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। সকাল ৬টা থেকে ৭ টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হবে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে এবং সময়মত স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories