বয়স বিশ হতে না হতেই অনেকেরই দেখা যায় ক্রমেই ফাঁকা হচ্ছে মাথা। চিরুনিও নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। চুল পড়া শুরু করলে কম-বেশি সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। চুল পড়া বা টাক রোধে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এতে খুব একটা কার্যকরী ফল পাওয়া যায় না।
চুল পড়ার সমস্যায় বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা কিছুটা বেশিই উদ্বিগ্ন। আগে ধারণা করা হতো―মাথায় টাক পড়া বার্ধক্যের লক্ষণ। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় বয়স ২০-২৫ হতে না হতেই মাথার চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়া শুরু করে। অল্প বয়সে চুল পড়া রোধে করণীয় এবং নতুন চুল গজাতে কী করতে হবে, এ ব্যাপারে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
কেন অল্প বয়সেই চুল পড়া শুরু হয়:
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: পুরুষের শরীরে যখন টেস্টোস্টেরন হরমোন ‘ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন’-এ রূপান্তর হয়, তখন সেটি চুলের ফলিকলগুলোকে ছোট করে ফেলে। এ কারণে চুল পাতলা হয়ে ঝরে পড়া শুরু করে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিন্দ্রা: পড়ালেখা ও ক্যারিয়ারের জন্য দৌড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত স্ট্রেস ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামক জটিলতা সৃষ্টি করে। এ কারণে হঠাৎ প্রচুর পরিমাণ চুল পড়া শুরু হয়।
পুষ্টির অভাব ও দূষণ: প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের অভাব দেখা দিলে এবং পাশাপাশি ধুলাবালি ও শক্ত পানি চুলের গোড়াকে ক্রমশ দুর্বল করে। যা চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
অল্প বয়সে টাক রোধে করণীয়:
সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন: ঘন ঘন চুল ধোয়ার জন্য সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। চুল ধোয়ার পর প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল কিছুটা গরম করে মাথায় মাসাজ করে নিতে পারেন। যা স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
ডায়েটে পরিবর্তন: চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিনে তৈরি হয়। এ জন্য প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম, মাছ, সোয়াবিন, পালং শাক ও বাদাম রাখুন। কারণ, বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
ডার্মারোলার ব্যবহার: ত্বক বিশেষজ্ঞরা ঘরোয়া যত্নে ডার্মারোলার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যা মাথার ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং হেয়ার সিরাম বা ওষুধের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়। নতুন চুল গজাতে এসব বেশ সহায়ক।
ডিএইচটি ব্লকার খাবার: এ ধরনের খাবারের মধ্যে কুমড়া বীজ, গ্রিন টি ও আমলকি পড়ে। যা প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার হিসেবে কাজ করে। এসব খাবার নিয়মিত খাওয়া হলে হরমোনজনিত চুল পড়া খানিকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
ধূমপান পরিহার ও পর্যাপ্ত: ধুমপানের কারণে চুলের ফলিকলে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পায়। এ জন্য চুল রক্ষায় ধূমপান ত্যাগ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। ঘুমের মাধ্যমে শরীরের কোষ মেরামত হয়ে থাকে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন: মাথার চুল পড়া যখন বন্ধ না হয়ে বরং ক্রমশ টাক হতে থাকবে বা চুলে টান দিলেই গোছা গোছা উঠে আসবে, তখন দেরি না করে একজন ট্রাইকোলজিস্ট বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী মিনোক্সিডিল বা পিআরপি থেরাপির মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা দেয়া হতে পারে।
Leave a Reply