আমি এখন আর আগের মতো
খুব একটা চোখে দেখিনা,
স্বরণশক্তি ম্লান হয়েছে বহুগুন-
আর দেহের চোখ-কান-মস্তক নিরুত্তেজ ।
শক্তিহীন শরীরের রক্ত মাংসের সাথে
দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আর নার্ভগুলোর
রাগ ক্ষোভ অভিমান চলে নিত্যদিন।
তবু, পুরনো ভাংগা চশমার সাহায্য-
সূর্য্য আর চন্দ্রের ক্ষীন আলোয়
মানুষকে চেনার চেষ্টা করি বটে,
কিন্তু, চিনতে পারিনা কখনো।
তবে, তোমাকে চিনবো কি করে ?
সময়ের নিয়ম ভেঙ্গে রাতের অন্ধকারে-
এসেছিলে নিরালায় অতিথি পাখির বেশে,
তারপর, ভোরের কুয়াশা ভেদ করে
পূর্বাকাশে একরাশ সূর্য্যরশ্নির কিরণচ্ছটায়
শিশির ভেজাঁ দূর্বাঘাস
শুকানোর পূর্বেই-
চলে গেলে আমাকে নি:সঙ্গ করে।
সেই থেকে একাকী জীবন আমার
নিজেকে সামলাতে না পারার যন্ত্রনা,
শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে
কত রকমের রোগব্যধি-বেঁধেছে বাসা।
আজকাল ওদের সাথে
খুব নিবিড় সম্পর্ক হয়েছে আমার,
তার চেয়ে বেশী
দেহের সাথে ব্যাধিগুলোর
ভাব হয়েছে গভীর।
অত:পর, জানা অজানার ধুম্রজালে কাটানো
আর যৌবন জীবনের শেষ নাট্যশালায়
কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই,
শুধু-নির্বিঘ্নে নীরবে নির্ভয়ে অন্তিমকালের
যাত্রী হতে পারলেই খুশি ।
পরিশেষে, ওপারে দেখা হবে নিশ্চিত
চেনা জানা হবে দুজন দুজনকে,
ইহকাল পরকালের আদিঅন্ত নিয়ে
দীর্ঘসময় তোমার সাথে আমার
নীরবে নিভৃতে কথা হবে নিশ্চিত।
Leave a Reply