বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রমে ট্রাকের ধাক্কায় গাজীপুরে অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হবে কি না সিদ্ধান্ত হয়নি: রেলমন্ত্রী এ বছর নয়, আগামী বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লিভারের যত্নে ‘সুপারহিরো’ মুলা: পুষ্টি বিশেষজ্ঞ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার

ব্যস্ত জীবনযাপন, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মানসিক চাপ ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে এখন আর ফ্যাটি লিভার কোনো বিরল রোগ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তারা লিভারের সমস্যা শুরু হয়ে গেছে। রুটিন পরীক্ষায় ধরা পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। লিভারের সুস্থতায় চিকিৎসা অবশ্যই জরুরি। তবে প্রতিদিনের খাবারে সামান্য পরিবর্তনও লিভার সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনই একটি সাধারণ কিন্তু কার্যকর খাবার হলো শীতের পরিচিত সবজি মুলা।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ নামামি আগারওয়াল মুলাকে আখ্যা দিয়েছেন লিভারের ‘সুপারহিরো’ হিসেবে। তার মতে, কোনো দামি সাপ্লিমেন্ট বা ডিটক্স ড্রিংক নয়-ঘরের এই সাধারণ সবজিটিই লিভারের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যাদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি রয়েছে।
মুলার অন্যতম গুণ হলো এটি লিভার থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদের ভাষায়, মুলা প্রাকৃতিকভাবে লিভারকে ডিটক্স করতে সহায়তা করে, ফলে লিভার আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে যাদের লিভার অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকে তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
এছাড়া মুলায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে যা লিভারের প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে।
লিভারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্তরস (bile) তৈরি ও নিঃসরণ। মুলা পিত্তরসের প্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে, যার ফলে শরীরে চর্বি হজম ভালোভাবে হয়। চর্বি সঠিকভাবে ভাঙতে পারলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও কমতে পারে।
মুলায় থাকা গ্লুকোসিনোলেটস নামের উপাদান প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এই যৌগগুলো এমন সব উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করে, যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে নিয়মিত মুলা খাওয়া লিভারের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
খাদ্যতালিকায় মুলা যুক্ত করাও বেশ সহজ। সকালে খালি পেটে মুলার রস পান করা যেতে পারে, কিংবা সকালে মুলা ভেজানো পানি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া কাঁচা মুলা সালাদে যোগ করা বা প্রতিদিনের রান্নার অংশ হিসেবেও এটি খাওয়া যায়।
তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো-মুলা কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। এটি লিভারের ডিটক্স, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি বিপাকে সহায়তা করলেও সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, সুস্থ থাকতে সব সময় জটিল কিছু দরকার হয় না। অনেক সময় ভালো স্বাস্থ্যের শুরু হয় আমাদের থালায় থাকা পরিচিত খাবার থেকেই।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories