বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রমে ট্রাকের ধাক্কায় গাজীপুরে অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হবে কি না সিদ্ধান্ত হয়নি: রেলমন্ত্রী এ বছর নয়, আগামী বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শীতে কেন ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে? লক্ষণ ও করণীয় কী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
শীতে কেন ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে? লক্ষণ ও করণীয় কী

শীতের আমেজ বয়ে চলছে। এ সময় ঋতুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ঠান্ডা আবহাওয়া বয়ে বেড়ায়। ফলে ত্বকের যেমন সমস্যা হয়, তেমনই ঠান্ডা লাগার ভয় থাকে। আবার কেউ কেউ ঠিকমত শরীরের যত্ন নিয়ে উপভোগ করেন এই শীতকে।
শীত কারও কারও কাছে উপভোগ্য হলেও, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে সময়টি স্নায়বিক ও হৃদরোগের সমস্যায় বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আর বয়স্ক ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অধিকতর থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
রক্তনালীর সংকোচন:
শীতে ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য শরীর তার তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে। এ কারণে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়। রক্তনালী সরু হওয়ার জন্য রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চাপের জন্য মস্তিষ্কের সরু ধমনী ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে।
রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি:
ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য মানুষের রক্ত খানিকটা ঘন বা চটচটে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রক্তের ‘সান্দ্রতা’ বৃদ্ধি বলা হয়। রক্ত ঘন হলে ধমনীর ভেতর ক্লট বা চাকা সৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা প্রয়োগ করে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলে।
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব:
শীতে অলসতা বা ঠান্ডার জন্য মানুষের শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়ামের মাত্রা হ্রাস পায়। এ কারণে শরীরের বিপাকীয় হার কমে এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা হ্রাস পেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে স্ট্রোক হওয়ার জন্য দায়ী।
ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা:
শীতে তৃষ্ণা কম পাওয়ার জন্য স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই কম পরিমাণ পানি পান করেন। এতে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। ফলে রক্ত আরও ঘন হয় এবং রক্তচাপের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে থাকে।
লবণের ব্যবহার বাড়ানো:
শীতে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার খাওয়া হয়। সেসব রকমারি মুখরোচক খাবারে লবণের ব্যবহার বেশি করা হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্ট্রোকের লক্ষণ:
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে লক্ষণগুলো শনাক্ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা FAST-পদ্ধতি মনে রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
F (Face): মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া বা হাসতে চাইলে অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে।
A (Arms): হাত অবশ হবে বা উপরে তুলতে গেলে সমস্যা হবে।
S (Speech): কথা বললে তা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে কথা বলতে পারবে না।
T (Time): এসব সমস্যা দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে এবং পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
সুরক্ষার উপায়:
পর্যাপ্ত উষ্ণতা: শীতে শরীরকে সবসময় গরম রাখতে হবে। এ জন্য মোটা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে মাথা ও কান ঢেকে রাখুন।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করুন।
হালকা ব্যায়াম: ঘরের ভেতরে অবস্থান করেই কিছু হালকা যোগব্যায়াম করা যায়। সেসব নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে এবং পাশাপাশি হাঁটাহাঁটি করতে হবে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস: খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ এড়িয়ে চলতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং খাদ্যতালিকায় নজর রাখতে হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories