বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম নির্ধারণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী গাজীপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ: ভোগান্তিতে যাত্রীরা গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান গ্রেপ্তার ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬ সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহ ভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল

সত্যি কি বাদাম আপনাকে সুস্থ রাখে, বিশেষজ্ঞের মতামত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার

সুস্থ থাকতে বড় কোনো পরিবর্তন নয়, অনেক সময় ছোট অভ্যাসই হয়ে ওঠে বড় উপকারের চাবিকাঠি। ঠিক তেমনই এক সহজ খাদ্যাভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি। তার মতে, প্রতিদিন মাত্র ৩০ গ্রাম লবণবিহীন বাদাম খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য হতে পারে অত্যন্ত উপকারী।
সম্প্রতি ডা. শেঠি জানান, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত প্রতিদিন ৩০ গ্রাম বাদাম খান, তাদের মধ্যে সব ধরনের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। যারা একেবারেই বাদাম খান না, তাদের তুলনায় এই পার্থক্য চোখে পড়ার মতো।
কেন এত উপকারী বাদাম
ডা. শেঠির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাদাম অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রচুর ফাইবার। এই উপাদানগুলো একদিকে যেমন মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি যে বাড়ে, তা কমাতে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে হজমশক্তি উন্নত করা ও অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় রাখতেও বাদাম কার্যকর।
৩০ গ্রাম মানে ঠিক কতটা
অনেকের কাছেই ‘৩০ গ্রাম’ পরিমাপটা একটু বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। বিষয়টি সহজ করে ব্যাখ্যা করেছেন ডা. শেঠি নিজেই। তার মতে, ৩০ গ্রাম বাদাম মানে একমুঠো বাদাম। বিভিন্ন ধরনের বাদামের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ হতে পারে—
প্রায় ২০টি কাঠবাদাম
১৫টি কাজুবাদাম
১৪টি আখরোটের অর্ধেক টুকরো
২০টি হ্যাজেলনাট
অথবা ৩০টি পেস্তা
ক্যালরির হিসাবে এই একমুঠো বাদামে থাকে আনুমানিক ১৭০ থেকে ২০০ কিলোক্যালরি, যা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার জন্য মোটেও অতিরিক্ত নয়।
এই অভ্যাসটি সহজে বজায় রাখার জন্য ডা. শেঠি নিজেও একটি কৌশল অনুসরণ করেন। তিনি জানান, দুপুরের খাবারের সঙ্গে বা লাঞ্চের সময় একমুঠো মিশ্র বাদাম খেতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এতে একদিকে যেমন পেট ভরা থাকে, অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
সুস্থ মস্তিষ্ক ও ভালো হজমশক্তির জন্য আলাদা কোনও জটিল ডায়েট নয় প্রতিদিন মাত্র একমুঠো বাদামই হতে পারে সহজ সমাধান। ছোট এই অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রতিটি মানুষের শারীরিক অবস্থা ভিন্ন, তবু সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে লবণবিহীন বাদাম যুক্ত করা বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ ও উপকারী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ নেয়াই ভালো। অন্যদিকে এটাও মনে রাখতে হবে যে বাদাম অবশ্যই লবণবিহীন হতে হবে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা ভাজা বাদাম এই স্বাস্থ্যগুণ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories