কাজু বাদাম হচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি উপাদান। এটি শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে থাকে। এ কারণে অনেকেই নানাভাবে কাজু বাদাম খেয়ে থাকেন। সবই মূলত উপকারিতার জন্য করা হয়।
বাদামটি বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়। কেউ শুকনো অবস্থায় হাতের মুঠোয় নিয়ে চিবিয়ে খান। আবার কেউ পানিতে ভিজিয়ে রেখে তারপর খেয়ে থাকেন। ধারণা করা হয়, কাজু বাদাম ভিজিয়ে রেখে খাওয়া হলে এতে একাধিক উপকারিতা পাওয়া যায়। মাখনের মতো মসৃণ, খেতে কিছুটা মিষ্টি ও সুস্বাদুও। যা চিবিয়ে ছাড়াও ভাজা অথবা বাদামের মাখন হিসেবে খেতে পারেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বাদাম খাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে লবণ বা চিনি ছাড়া ভিজিয়ে রেখে খাওয়া। তাহলে একমাস ভেজানো কাজু বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১ আউন্স বা ২৮ গ্রাম কাজু বাদামে রয়েছে- ১৫৭ গ্রাম ক্যালোরি, ৫.১৬ গ্রাম প্রোটিন, ১২.৪ গ্রাম ফ্যাট, ৮.৫৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ০.৯ গ্রাম ফাইবার। এছাড়া ৮২,৮ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ০.৪ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ, ১৬৮ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১.৮ মিলিগ্রাম আয়রন, ০.১ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.১ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬ উপাদান রয়েছে।
কোলেস্টেরল কমায়:
জার্নাল অব সায়েন্স টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ অন দ্য মেডিসিনাল ইউজেস অব কাজু-২০২১ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কাজু বাদাম খেয়ে থাকেন, তাদের স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকা সত্ত্বেও এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা অল্প হ্রাস পায়।
হৃদরোগে প্রতিরোধ সহায়ক:
জার্নাল অব ফুড রিসোর্চের ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজু বাদামের চর্বি স্টিয়ারিক অ্যাসিড থেকে তৈরি, যা রক্তের কোলেস্টেরলের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলে না। আবার উচ্চ ম্যাগনেশিয়াম উপাদান হৃদপিণ্ডে সঠিক রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে ইস্কেমিক হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কাজ করে। ম্যাগনেশিয়াম রক্তনালী ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে, যা অন্যথায় মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে এবং স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও পরিচালনা:
কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে কাজু বাদাম রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এসবে উচ্চ মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটও থাকে। যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় এবং ইনসুলিনের উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য সহায়ক বলে জানা গেছে জার্নাল অব সায়েন্স টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চের ২০২১ সালের প্রতিবেদন থেকে।
প্রদাহ কমায়:
ন্যাশনাল লাইব্রেরী অব মেডিসিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজু বাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস হওয়ার কারণে এটি ফ্রি র্যাডিকেল নামে পরিচিত ক্ষতিকারক অণুগুলিকে নিরপেক্ষ করে। ফলে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
ওজন কমাতে সহায়ক:
বাদামমুক্ত খাবারের তুলনায় বাদামসমৃদ্ধ খাবার স্বাস্থ্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কাজু বাদাম থেকে প্রাপ্ত চর্বি তাদের তন্তুযুক্ত দেয়ালের মধ্যে আটকে থাকে। এছাড়া হজমের সময় সম্পূর্ণরূপে শোষিত হয় না এটি।
কাজু বাদাম দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপায়:
কাজু বাদাম দীর্ঘদিন ভালো ও সতেজ রাখতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। এ জন্য একটি বায়ুরোধী পাত্রে রেখে দিতে পারেন। আবার চাইলে জিপ-লক ব্যাগেও সংরক্ষণ করতে পারেন। বাদামগুলো একটি শীতল ও শুষ্ক জায়গায় রাখুন।
খাদ্যতালিকায় কাজু বাদাম রাখার উপায়:
কাজু বাদাম সহজেই স্যুপ, সালাদ থেকে শুরু করে স্টু পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের খাবারে যোগ করা যায়। যেমন স্মুদিতে যোগ করতে পারেন। এতে স্মুদি অধিকতর স্বাস্থ্যকর হবে এবং পেট ভরে রাখবে। ক্রিমি নাশতার জন্য টোস্টের ওপর কাজু মাখন ছড়িয়ে দিতে পারেন।
Leave a Reply