বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কার্ডিওভাসকুলার রোগে মৃত্যুর মধ্যে পাঁচটির মধ্যে চারটি ঘটে হার্ট অ্যাটাকের কারণে। হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হঠাৎই আসে, তবে এর কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ আগেই দেখা দেয় যা অনেকেই গুরুত্ব দেন না। সময়মতো সতর্ক হলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। সম্প্রতি কার্ডিওলজিস্ট ডা. অলোক চোপড়া তার ইনস্টাগ্রামে এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত তুলে ধরেছেন, যা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়।
হার্ট অ্যাটাকের আগের সূক্ষ্ম লক্ষণগুলি
ডা. চোপড়া বলেন, হার্টের বড় বিপদ এড়াতে হলে তার আগের ছোট ছোট ইঙ্গিতগুলো চিনে নিতে হবে। তাঁর তালিকাভুক্ত পাঁচটি সতর্কবার্তা নিচে তুলে ধরা হলো—
১. বুকব্যথা বা পরিশ্রমে চাপের অনুভূতি
হার্ট অ্যাটাকের ক্লাসিক লক্ষণ হলো বুকব্যথা। তবে ব্যথার ধরন বুঝতে পারা জরুরি। ডা. চোপড়া জানান, এই ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখান থেকে শুরু হয়। পরে গলা, চোয়াল এবং দুই হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনও আসে, কখনও যায় কিন্তু তাই বলে নিরাপদ নয়। এটিকে অ্যাঞ্জাইনা বলা হয়, যা হার্টের ধমনী ব্লক হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
২. সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট
দ্রুত হাঁটা, সিঁড়ি ওঠার মতো কাজে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সতর্ক হওয়া দরকার। ডা. চোপড়ার মতে, পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে বিশ্রামে কমে গেলে তা হার্টে রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বসে বিশ্রাম নেওয়া এবং দ্রুত সাহায্য নেওয়া উচিত।
শীতের সকালে দৌড়ানো ভালো নাকি খারাপ?
৩. পায়ে ফোলা বা ওজন বেড়ে যাওয়া
পা, গোড়ালি বা পায়ের নিচে ফোলা দেখা দিলে এটি শরীরে অস্বাভাবিক ফ্লুইড জমার লক্ষণ হতে পারে।
হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে এমনটা দেখা যায়, যা হার্ট ফেইলিউরের আগাম সংকেত।
৪. অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়া
হঠাৎই যদি দৈনন্দিন কাজগুলো করতে গিয়ে প্রচণ্ড ক্লান্তি লাগে, তবে সেটি হার্টের অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। ডা. চোপড়া বলেন, শরীর হঠাৎ দুর্বল লাগা মানে হার্ট ঠিকমতো কাজ করছে না।
৫. মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ দ্রুত হৃদস্পন্দন
এই লক্ষণগুলো রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া বা হার্টের রিদমের সমস্যা নির্দেশ করে। মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কখনওই হালকা সমস্যা নয়, এটি হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেতও হতে পারে। ডা. চোপড়া সতর্ক করে বলেন, এই রিদম সমস্যাগুলো নীরব ঘাতকের মতো। তাই কখনওই এগুলোকে ছোটখাটো অস্বস্তি বলে ভাববেন না।
হার্ট অ্যাটাক আকস্মিক হলেও, তার আগের ছোট ছোট সতর্কবার্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পা ফোলা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা এসবের যেকোনো একটি দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার বিকল্প নেই।
Leave a Reply