মাঝে–মাঝেই টয়লেটে যেতে হচ্ছে বলে কি দুশ্চিন্তা বাড়ছে? অনেকেই ভাবেন, বারবার মলত্যাগ কোনও রোগের লক্ষণ কিনা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন সবসময়ই এমন নয়। আপনার পাচনতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াতেই দিনের মধ্যে একাধিকবার মলত্যাগ করতে পারেন। তবে কিছু সতর্কতাও মাথায় রাখা জরুরি।
দিনে কয়েকবার টয়লেটে যেতে হলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের সিনিয়র গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. নুতন দেসাই জানালেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি বলেন,অনেক মানুষের জন্য দিনে একাধিকবার মলত্যাগ করতে পারেন যেটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
কেন বারবার যেতে হয়: বিশেষজ্ঞের মতে, এর বড় কারণ হলো গ্যাস্ট্রোকলিক রিফ্লেক্স। যখন খাবার পেটে পৌঁছালে পাকস্থলী অন্ত্রে সিগন্যাল পাঠায় এবং মলত্যাগের তাগিদ তৈরি হয়। কারও ক্ষেত্রে এই রিফ্লেক্স বেশি সক্রিয় থাকে, ফলে খাওয়ার অল্পক্ষণ পরেই মলত্যাগের প্রয়োজন হতে পারে। এটিকে অনেকেই সমস্যা মনে করলেও, বাস্তবে এটি সুস্থ ও সক্রিয় পাচনতন্ত্রের লক্ষণ।
ডা. দেসাই বলেন, প্রতিদিন কয়বার মলত্যাগ করছেন সেটি নিয়ে না ভেবে মলের গঠন, নিয়মিততা কিংবা কষ্ট হচ্ছে কিনা এসব দিকে নজর রাখতে হবে। কারও দৈনিক একবার মলত্যাগ স্বাভাবিক, কারও দুই–তিনবার। যদি মল স্বাভাবিক থাকে, ব্যথা না থাকে, অস্বস্তি না হয় এবং তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে যেতে না হয় তাহলে বারবার টয়লেটে যাওয়া সাধারণত চিন্তার বিষয় নয়।
কখন অস্বাভাবিক হতে পারে: ডা. দেসাই কিছু লক্ষণের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। যেগুলো দেখা দিলে সাবধান হতে হবে। এগুলো হলো:
বারবার মলত্যাগের সঙ্গে পেট ব্যথা বা ক্র্যাম্প
প্রচণ্ড তাড়া
পাতলা মল
হঠাৎ ঘনঘন মলত্যাগ শুরু হওয়া।
এই লক্ষণগুলো ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা সংবেদনশীল অন্ত্রের ইঙ্গিত করতে পারে। গুরুতর হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। যদি অভ্যাসের সঙ্গে আচমকা পরিবর্তন আসে বা অস্বস্তি হয়, তাহলে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
বারবার টয়লেটে যাওয়া সবসময়ই অসুস্থতার লক্ষণ নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি আপনার পাচনতন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ। তবে যেকোনও নতুন, বিরক্তিকর বা অস্বস্তিকর পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
Leave a Reply