বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম নির্ধারণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী গাজীপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ: ভোগান্তিতে যাত্রীরা গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান গ্রেপ্তার ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬ সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহ ভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল

নারীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির অন্যতম কারণ মেনোপজ নিয়ে অজ্ঞতা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার

নারীদের জীবনের কোনও এক পর্যায়ে মেনোপজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। কিন্তু এই স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে অজ্ঞতা, ভুলধারণা এবং নীরবতা অনেক নারীর জন্যই তা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সময়মতো লক্ষণ চিনতে না পারা, চিকিৎসা না নেয়া এবং সমাজের অজ্ঞতা নারীর স্বাস্থ্যকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
মেনোপজ কী: খুব কম মানুষের মেনোপজ নিয়ে ধারণা রয়েছে। মেনোপজ হলো এমন একটি সময় যখন নারীর মাসিক ঋতুচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি আর স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণে সক্ষম থাকেন না। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে মেনোপজ ঘটে। তবে এমন অনেকেই আছেন যাদের বয়স ৪০ বছর হওয়ার আগেই মেনোপজ হয়।
মেনোপজের প্রথম ধাপ ‘পেরিমেনোপজ’ যেখানে হরমোনের ঘাটতি ধীরে ধীরে শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটায়। অনিয়মিত পিরিয়ড, ঘন ঘন হট ফ্ল্যাশ, ঘুমের সমস্যা, মুড সুইং ইত্যাদি সাধারণ লক্ষণ হলেও অধিকাংশ নারীই জানেন না এগুলো মেনোপজেরই ইঙ্গিত। গবেষণায় দেখা গেছে যুক্তরাজ্যের ৯০ শতাংশ নারী স্কুলে কখনোই মেনোপজ সম্পর্কে শিক্ষা পাননি। বহু নারী চিকিৎসকের কাছেও প্রয়োজনীয় তথ্য বা পরামর্শ পান না, ফলে বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপ আরও বাড়ে।
মেনোপজের লক্ষণ: মেনোপজের লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সর্বাধিক পরিচিত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
হট ফ্ল্যাশ ও রাতে ঘেমে যাওয়া
অনিদ্রা
মুড পরিবর্তন
মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন
জয়েন্ট ও মাংসপেশির ব্যথা
ওজন বৃদ্ধি
যৌন আকাঙ্ক্ষায় পরিবর্তন
ত্বক ও চুলের সমস্যা
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
মূত্রধারণে সমস্যা
অনেক সময় এই লক্ষণগুলো অন্য রোগের সঙ্গেও মিলে যায়, ফলে নারীরা বুঝতেই পারেন না যে তারা মেনোপজে প্রবেশ করছেন।
অজ্ঞতার বিপদ: বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনোপজ সম্পর্কে অজ্ঞতা নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
১. হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে
মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন কমে যায়, যা খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
২. শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত রোগের সম্ভাবনা
গবেষণা বলছে প্রিম্যাচিউর মেনোপজে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৩. মানসিক স্বাস্থ্য সংকট
হরমোন কমে যাওয়ায় ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং কিনারা-বোধ তৈরি হতে পারে। তবে অনেক নারী এগুলোকে ‘বয়স হয়ে গেছে’ ভেবে এড়িয়ে যান।
৪. হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি
অস্টিওপরোসিস বা হাড় ভঙ্গুরতা মেনোপজের অন্যতম বড় ঝুঁকি।
৫. ভুল চিকিৎসা ও অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার
ভারত ও অন্যান্য নিম্ন আয়ের দেশে দরিদ্র নারীদের অনেক সময় অজ্ঞতার কারণে অপ্রয়োজনেই জরায়ু অপসারণ করানো হয় যা আগেভাগে মেনোপজের দিকে ঠেলে দেয়।
কেন এখন বয়সের আগেই মেনোপজ দেখা দেয়: দরিদ্র, গ্রামাঞ্চল ও কম শিক্ষিত নারীদের মাঝে আগাম মেনোপজের হার বাড়ছে। ভারতে দেখা গেছে অনেক নারীর গাইনি সমস্যা হলে পরিবার বা চিকিৎসকের পরামর্শে বিকল্প চিকিৎসা বিবেচনা না করেই হিস্টেরেকটমি করা হয়। এতে অল্প বয়সেই তাদের মধ্যে মেনোপজের বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়।
মেনোপজ মোকাবিলা: বিশ্বব্যাপী মেনোপজের প্রধান চিকিৎসা হলো হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, যা শরীরে কমে যাওয়া ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন পূরণ করে।
চিকিৎসা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত—
ইস্ট্রোজেন থেরাপি
ইস্ট্রোজেন-প্রোজেস্টেরন কম্বিনেশন
কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট
ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট
জীবনধারায় স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আনা
তবে অনুন্নত দেশে চিকিৎসায় বৈষম্য প্রকট অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, কম সচেতনতা এবং চিকিৎসকদের সীমিত প্রশিক্ষণের কারণে নারীরা সঠিক চিকিৎসা পান না।
মেনোপজ জীবনের স্বাভাবিক এক অধ্যায় কোনও রোগ নয়। তবে তথ্যের অভাব, চিকিৎসার ব্যয়, অজ্ঞতা, লজ্জা এবং ভুলধারণা এটিকে বিপজ্জনক করে তুলছে। সচেতনতা বাড়লে, সময়মতো চিকিৎসা নিলে এবং মানসিক সমর্থন পেলে নারীরা এই পরিবর্তন সহজেই সামলাতে পারেন।
মেনোপজ মানেই কিন্তু নারীর জীবনের সব শেষ এমন নয়। সমাজের ভুল ধারণা থেকেই এমন ভাবা হয়। তাই এখন সময় সচেতন হওয়ার। সমাজের অজ্ঞতা নারীর স্বাস্থ্যগত ক্ষতি করছে তাই সচেতন না হলে এই সমস্যা বাড়তেই থাকবে পরিবারের সদস্য, সমাজ ও নীতিনির্ধারক সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে প্রতিটি নারী বুঝতে পারে মেনোপজ কোনও লজ্জার বিষয় নয়। মনোপজ নারীর জীবনের স্বাভাবিক এক অধ্যায়।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories