ইসবগুলকে সাইলিয়াম হাস্কও বলা যায়। এই উদ্ভিদের বীজের বাইরের আবরণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় জন্মে। এর বীজ সংগ্রহ করার সময় বাইরের আবরণ বা ভুসি আলাদা করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিষ্কার করা হয় ও শুকানো হয়। সেই শুকনো খোসাকেই বলা হয় ইসবগুলের ভুসি। অনেকেই ইসবগুলের ভুসিকে জাদুকরী উপাদান বলে থাকেন। এতে উচ্চ পরিমাণ দ্রবণীয় খাদ্যতালিকাগত ফাইবার রয়েছে, যা পানির সঙ্গে মিলিত হলে ফুলে যায় এবং এক ধরনের জেল তৈরি করে। এই ভুসি একবার তরল পদার্থের সঙ্গে খাওয়ার পর অন্ত্রে চলে যায়, পানি শোষণ করে ফুলে এবং মল নরম করে এবং তা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ইসবগুলের ভুসির নানা উপকারিতা সম্পর্কে কয়েকটি উচ্চমানের গবেষণা এবং বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে ইসবগুলোর ভুসির সঠিক ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়। কিন্তু অনেকেই এই ভুসির উপকারিতা এবং ব্যবহার প্রক্রিয়া ভালো করে জানেন না। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
সুস্থ অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা:
একটি ছোট পরীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খাওয়া হলে মলের মাইক্রোবায়োটার গঠন পরিবর্তন হয় এবং কোলনে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড বৃদ্ধি করে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের স্বাস্থ্যের সূচক ভালা করে:
বিভিন্ন পরীক্ষা ও পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইসবগুলের ফাইবার অন্ত্রে পিত্ত অ্যাসিডকে আবদ্ধ করে খারাপ কোলেস্টেরল এবং মোট কোলেস্টেরলে হ্রাস করতে পারে। ফলে পুনঃশোষণ হ্রাস পায় এবং কোলেস্টেরল নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:
রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বা বিপাকীয় ব্যাঘাত থাকাদের জন্য ইসবগুলের ভুসি কার্বোহাইড্রেট শোষণকে ধীর করে, খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণও বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:
এক বিশ্লেষণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, খাবারের আগে বিভক্ত মাত্রায় ইসবগুলের ভুসি গ্রহণ করা হলে তা অতিরিক্ত স্বাস্থ্য বেড়ে যাওয়া, প্রাপ্তবয়স্কদের ওজন বৃদ্ধি, বিএমআই এবং কোমরের পরিধি কমাতে পারে।
মলত্যাগ নিয়মিত করে:
ইসবগুলের ভুসি পানি শোষণ করে এবং অন্ত্রে নরম জেলে পরিণত হয়। এ জন্য এটি শক্ত মল নরম করতে, চাপ কমাতে এবং অন্ত্রের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। অনিয়ম, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা আইবিএস-সি’তে ভুগলে ইসবগুলের একটি ছোট ডোজ গ্রহণ করলে সমস্যা সমাধান হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ায় উপকারী:
ইসবগুলের ভুসি যেহেতু মলের ধারাবাহিকতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, এ জন্য এটি শুধু কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রেই নয়, বরং ডায়রিয়া বা আলগা মলের সমস্যায়ও কার্যকর। সংবেদনশীল অন্ত্র বা ইরিটেবল বাওয়াল সিনড্রোমের মতো সমস্যার ক্ষেত্রে, গমের ভুসির মতো রুক্ষ ফাইবারের উৎসের থেকে ইসবগুলের ভুসি বেশি সুপারিশ করা হয়। কারণ, এটি মৃদু ও ভালোভাবে সহ্য করা যায়।
ব্যবহারের উপায়:
অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সন্ধ্যার খাবারের সময় বা ঘুমানোর আগে দিনে একবার ১-২ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি খাওয়া যথেষ্ট। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উচ্চ মাত্রা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ করে প্রচুর পরিমাণ পানি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আবার এক গ্লাস সাধারণ গরম বা উষ্ণ দুধে (২০০-২৫০ মিলি) ইসবগুলের ভুসি বা গুঁড়া মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে তা পান করে ফেলুন। এরপর পানিশূন্যতা বা শ্বাসরোধ রোধ করতে আরও এক গ্লাস পানি পান করুন।
অনেকেই রাতে খবাারের পর বা ঘুমানোর আগে এটি খেয়ে থাকেন। কারণ, এটি রাতের খাবারের হজমে সহায়তা করে এবং পরদিন সকালে মলত্যাগে সহায়তা করে। গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণ বা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাওয়া হলে, প্রধান খাবার গ্রহণের প্রায় ২০-৩০ মিনিট আগে খেতে হবে, এতে ক্ষুধা কমবে এবং হজম ধীরগতির হবে। ইসবগুলের ভুসি পানি শোষণ করে ও ফুলে যায় বলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা অপরিহার্য। তা না হলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা এমনকি অন্ত্রের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। আর যেকোনো সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
Leave a Reply