এখন শীতকাল চলছে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমী সংক্রমণও দেখা দিচ্ছে অনেকের। অনেক মানুষেরই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ জন্য রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ফলের দিকে ঝুঁকছেন তারা। আর বাজারে পাওয়া ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আপেল ও কমলা।
দুটি ফলই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। যা শরীরকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। শীতে ছোট ছোট বিভিন্ন রোগ হয় বলে এ সময় রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়। ফলে ফল খাওয়ার ব্যাপারেও বিশেষ দৃষ্টি থাকে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকে, কোন ফলটি আপনাকে শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে, আপেল না কমলা? এনডিটিভির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
আপেল ও কমলার মধ্যে কেন তুলনা করা হয়:
দুটি ফলই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, হাইড্রেশন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বহন করে। যা বিভিন্ন রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার মধ্যে শরীরকে সহায়তা করে। কমলালেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় দ্রুত ঠান্ডা থেকে আরোগ্য লাভে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে আপেল অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থিতিশীলতায় ভূমিকা পালন করে। শীতে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ভিন্নভাবে কাজ করে। এ জন্য দুটির তুলনা কার্যকর হয়ে উঠে।
ভিটামিন সি’র পরিমাণের তুলনা:
কমলা প্রতি ১০০ গ্রামে ৫৩ দশমিক ২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। আর খোসাসহ ১০০ গ্রাম আপেলে ৪ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম ভিটামিনি সি থাকে।
২০১৭ সালের এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিটামিন সি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সংক্রমণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করে। কমলালেবু উল্লেখযোগ্যভাবে ভিটামিন সি বেশি প্রদান করে। এ জন্য এটি দ্রুত রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প হিসেবে কাজ করে থাকে। সার্বিকভাবে কমলালেবুতে ভিটামিন সি বেশি থাকে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:
আপেলে কোয়ারসেটিন থাকে এবং কমলালেবুতে হেস্পেরিডিন ও ভিটামিন সি থাকে।
২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আপেল কোয়ারসেটিন সরবরাহ করে, যা প্রদাহ-বিরোধী এবং ভাইরাসবিরোধী কার্যকলাপে সহায়তা করে। ২০১৪ সালের অন্য একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কমলালেবু হেস্পেরিডিন ও ভিটাসিন সি সরবরাহ করে, যা শ্বাসযন্ত্রের উন্নতির সঙ্গে যুক্ত এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে।
কমলালেবু অল্প সময়ের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের উপশম প্রদান করে। আর আপেল প্রতিদিনের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহায়তা প্রদান করে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য উপকারিতা:
প্রায় ৭০ শতাংশ রোগ প্রতিরোধক কোষ অন্ত্রে পাওয়া যায়। আপেলে পেকটিন নামক উপাদান থাকে, যা উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। হিলিং ফুডস বই অনুযায়ী, পেকটিনের একটি অ্যাস্ফোটেরিক ক্রিয়া রয়েছে, যা শরীরের চাহিদার ওপর নির্ভর করে হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। অন্যদিকে কমলালেবুতে ফাইবার থাকে, তবে তা আপেলের মতো এত মাত্রায় নয়। আপেল অন্ত্রের স্বাস্থ্যের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
শক্তি নিঃসরণ ও রক্তে শর্করার পরিমাণ:
হিলিং ফুডস বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আপেলে থাকা ফ্রুকটোজ ও পলিফেনল বিপাক স্থিতিশীল করতে এবং চিনির শোষণকে ধীর করতে সহায়তা করে। এটি এমন মানুষদের সহায়তা করে, যাদের স্থিতিশীল শক্তির প্রয়োজন হয় বা রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় থাকে। কমলালেবু দ্রুত শক্তি নির্গত করে, যা ইনসুলিনের উঠানামা করা মানুষদের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। আপেল স্থিতিশীল শক্তি সরবরাহ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
শীতকালে কোনটি রোগ-প্রতিরোধে বেশি কার্যকর:
আপেল ও কমলালেবু, দুটিই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে কোনটি আপনার জন্য বেশি কার্যকর তা আপনাকেই দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাৎক্ষণিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কমলালেবু বেছে নিতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদী অন্ত্রভিত্তিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সারাদিন স্থিতিশীল শক্তি চাইলে আপেল খেতে হবে। অনেকেই শীতে আপেল ও কমলালেবু উভয়ই খান। এটিও ভালো।
Leave a Reply