বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম নির্ধারণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী গাজীপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ: ভোগান্তিতে যাত্রীরা গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান গ্রেপ্তার ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬ সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহ ভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল

কুয়াশা ও বায়ুদূষণ কি হার্ট অ্যাটাক বাড়াচ্ছে? যা জানালেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
কুয়াশা ও বায়ুদূষণ কি হার্ট অ্যাটাক বাড়াচ্ছে? যা জানালেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

শীতের মৌসুম চলছে। এ সময় বাসা-বাড়ির বাইরে উঁকি দিলেই দেখা যায় কুয়াশার স্তর পড়ে আছে। আবার বাতাস তো রয়েছেই। শীতে বাতাস যেমন শীতের তীব্রতা বাড়ায়, আবার কুয়াশা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যা সৃষ্টি করে। আর কুয়াশা ও বাতাস উভয়ই হার্টকে প্রভাবিত করতে পারে বলে জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান স্পাইনাল ইনজুরিজ সেন্টারের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. অসীম।
এ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ভোরের সময় হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য কার্ডিয়াক ইমারজেন্সি বৃদ্ধির কারণও জানিয়েছেন। মূলত সকালের খারাপ সময় সম্পর্কে জানতে হবে আপনাকে। এ জন্য দুটি উপাদান ভালোভাবে বুঝতে হবে। প্রথমটি হচ্ছে শরীরের বাইরে কী ঘটছে এবং দ্বিতীয়টি অভ্যন্তরে কী ঘটছে। এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জেনে নেয়া যাক-
বাহ্যিক কারণ:
সকালের কুয়াশা প্রায়ই ঘন হয়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পৃষ্ঠের কাছাকাছি উষ্ণ বাতাস উঠে যায় কুয়াশায়। ফলে এর সঙ্গে দূষণও বেড়ে যায়। কিন্তু ঠান্ডা মৌসুমে ঠান্ডা বাতাস, এর উপরে আটকে থাকা উষ্ণ বাতাসের স্তর দিয়ে উঠতে পারে না। যা কিনা ঢাকনার মতো কাজ করে। এই কুয়াশায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে পিএম ২.৫। এই ক্ষুদ্র ও অদৃশ্য কণাগুলো এতটাই ছোট যে, তারা শরীরের প্রাকৃতিক ফিল্টারগুলো অতিক্রম করে এবং ফুসফুস থেকে সরাসরি রক্ত প্রবাহে চলে যায়।
অভ্যন্তরীণ কারণ:
সার্কাডিয়ান ছন্দ শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান ছন্দ বিবেচনা করুন। সকাল মানুষের হার্টের জন্য স্বাভাবিকভাবেই চাপের সময়। ঘুম থেকে জেগে উঠার সময় শরীর ‘শুরু করুন’ হরমোনগুলোর একটি ঝাঁকুনি প্রকাশ করে, যা প্রধানত কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন।
কুয়াশার সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক কী:
সকালে ঘুম থেকে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই সার্কাডিয়ান ছন্দের জন্য হার্ট একটু বেশি চাপ অনুভব করে। আর সকালের কুয়াশা ভরা বাতাসে গভীর নিঃশ্বাস নেয়া হয়। এতে ক্ষুদ্র পিএম ২.৫ কণা রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে। শরীর সেই কণাগুলোকে বাইরের জীব হিসেবে বিবেচনা করে এবং বড় প্রদাহজনক অবস্থা সক্রিয় করে। এই প্রদাহজনিক প্রতিক্রিয়া অজান্তে শুধু ফুসফুসে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রক্তনালী ও করোনারি ধমনীগুলোর সূক্ষ্ম আস্তরণসহ সারা শরীরজুড়ে ঘটতে পারে।
এসব ভবিষ্যতে প্রদাহ সৃষ্টি করে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। যেমন- প্রদাহের জন্য ধমনীগুলো সংকুচিত বা শক্ত হয়, ফলে রক্তচাপ বাড়ে। ধমনীতে যদি কোলেস্টেরল ফলক থাকে, প্রদাহ সেই ফলকগুলোকে অস্থিতিশীল করে এবং ভেঙে যায়। ফলক যখন ভেঙে যায়, তখন শরীর এটি নিরাময়ের জন্য রক্ত জমাট বাঁধার চেষ্টা করে এবং এটি করোনারি ধমনীকে যদি আটকে দেয়, তাহলে এটি হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে। যা হার্ট অ্যাটাক।
হার্ট ভালো রাখতে করণীয়:
সকালের কুয়াশা স্বাভাবিক সকালের চাপের সঙ্গে মিলিত হয়ে হার্টের জন্য ‘নিখুঁত জটিলতা’ তৈরি করে। রাতারাতি বাইরের বাতাসের গুণগত মান ঠিক করা যায় না। তবে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারি। হার্টের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য যত্নশীল হতে হবে।
একিউআই পরীক্ষা:
অন্য কোনো কিছুর আগে ফোনে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) পরীক্ষা করে নিন। এটি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করুন, যেমন আবহাওয়া পরীক্ষা করা।
মর্নিং ওয়াক বিবেচনা:
চিকিৎসকরা বলছেন, মর্নিং ওয়াক বিবেচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সবাই জানেন, সকালে হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু যদি একিউআই খারাপ বা খুব খারাপ বা গুরুতর হয়, তাহলে ভালোর বিপরীতে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। এই সময় হাঁটাহাঁটি করা মানে ফুসফুসে বিষাক্ত পদার্থ দেয়া।
রুটিনে পরিবর্তন:
দীর্ঘদিন ভালো থাকতে বাসা-বাড়িতেই ওয়ার্কআউট করতে পারেন। ধূমপানের মাত্রা সাধারণত দিনে কিছুটা নিরাপদ থাকে। তবে এটি পরিহার করাই শ্রেয়। সকালে ঘর বন্ধ রাখুন, ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। সম্ভব হলে বেডরুমে একটি ভালো এয়ার পিউরিফায়ার ইনস্টল করুন। নিশ্চিত হয়ে নিন যে, রাতে যে শ্বাস নেন তা পরিষ্কার ও নিরাপদ।
বাসা-বাড়ি থেকে বের হতেই হয় তাহলে মাস্ক ব্যবহার করুন। হাতের কাছে যদি ভালো ফিটিং এন 95 বা এফএফপি 2 মাস্ক পান, সেটি ব্যবহার করুন। সাধারণ কাপড়ের মাস্ক আপনাকে পিএম ২.৫ কণা থেকে রক্ষা করবে না। প্রয়োজনে ঝুঁকিগুলো শনাক্ত করে নিন। এরইমধ্যে যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকে, তাহলে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন আপনি। এ জন্য সতর্ক থাকতে হবে এবং যেকোনো সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories