বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে : রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম নির্ধারণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী গাজীপুরে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ: ভোগান্তিতে যাত্রীরা গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান গ্রেপ্তার ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬ সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহ ভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল

ভাঙা দাঁতের খোঁচা থেকেও হতে পারে মরণব্যাধি ক্যান্সার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার

মুখের ভেতরের ভাঙা বা ধারালো দাঁতের ক্ষতকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। জিহ্বা বা গালে বারবার লাগা এই সামান্য খোঁচা বা ক্ষতটিই দীর্ঘদিন রাখলে একসময় তা নীরবে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। এছাড়া তামাক ও অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্যের প্রতি আসক্তি এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেয়ার প্রবণতার কারণে দেশে ওরাল (মুখের ভেতরে) ক্যান্সারের ঝুঁকি ও মৃত্যুহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের ডিন ও ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন। মুখের ক্ষত ও ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুখে নানা কারণে ক্ষত বা ঘা হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো ‘অ্যাপথাস আলসার
ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ আরও বলেন, ‘মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ঘুমের ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব, ব্রাশের খোঁচা বা খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গাল বা জিহ্বায় কামড় লাগলে এই ঘা হতে পারে। এটি কষ্টদায়ক হলেও এতে ভয়ের কিছু নেই। এই আলসার সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে কোনো ওষুধ ছাড়াই নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে এ সময় সামান্য ব্যথানাশক জেল বা মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে স্বস্তি মেলে।’
তবে সব ক্ষত সাধারণ নয় উল্লেখ করে ডা. সাখাওয়াৎ বলেন, ‘কিছু ক্ষত শরীরের অন্য কোনো জটিল রোগের লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। যেমন, যক্ষা রোগীদের ক্ষেত্রে ‘টিউবারকুলাস আলসার’, সিফিলিস রোগীদের ‘সিফিলিটিক আলসার’ কিংবা হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণে জ্বরঠোসা বা ফোসকা থেকেও মুখে ঘা হতে পারে। এর বাইরে কিছু ক্ষত আছে যাকে ‘প্রি-ম্যালিগন্যান্ট লেসন’ বা ক্যান্সারের পূর্বাবস্থার ক্ষত বলা হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এবং জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তন না করলে এগুলো ক্যান্সারে রূপ নেয়। এর মধ্যে লিউকোপ্লাকিয়া (সাদা ঘা), এরিথ্রোপ্লাকিয়া (লালচে ঘা), লাইকেন প্ল্যানাস (এলপি) এবং ওরাল সাবমিউকাস ফাইব্রোসিস (ওএসএমএফ) অন্যতম।
ওরাল সাবমিউকাস ফাইব্রোসিস (ওএসএমএফ) সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিএমইউ’র এ চিকিৎসক বলেন, ‘ওএসএমএফ-এর প্রধান কারণ হলো সুপারি। আমাদের দেশে অনেকেই পানের সাথে কিংবা শুধু শুধু সুপারি চিবান। যারা দীর্ঘসময় মুখে সুপারি রাখেন বা পান-সুপারি চিবান, তাদের মুখের ভেতরের পাতলা মিউকাস ঝিল্লির নিচের অংশ (সাবমিউকাস) ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। একসময় এটি টান দেওয়া রশির মতো হয়ে যায় বা অনেকটা অংশ শক্ত হয়ে যায়, যা ফাইব্রোসিস নামে পরিচিত। এতে মুখ হা করতে সমস্যা হয়। একইসাথে এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ‘লাইকেন প্যানাস’ নামক অটোইমিউন ডিজিজের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের ঝুঁকি অনেক বেশি। কেননা ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে না থাকলে এসব ক্ষত নিয়ন্ত্রণ করা আরও জটিল হয়ে পড়ে।’
মুখের ক্যান্সারের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ বলেন, ‘সরাসরি ক্যান্সার বা ‘স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা’র প্রধান কারণ হলো ধোঁয়াবিহীন তামাক বা চিবিয়ে খাওয়া তামাকজাত দ্রব্য যেমন- গুল, জর্দা, সাদা পাতা ও খৈনি ইত্যাদি। আমাদের দেশে অনেকে পানের সঙ্গে জর্দা, সাদা পাতা খান, আবার অনেকে গুল ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনও বড় ঝুঁকির কারণ। কেননা, শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই যেখানে তামাক ক্ষতি করে না। তবে কেউ যদি ধূমপান, অ্যালকোহল ও জর্দা এই একাধিক অভ্যাসে আসক্ত হন, তবে তার এই ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করে। এছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি), যা নারীদের জরায়ু ক্যান্সারের জন্য দায়ী, সেটিও মুখের ক্যান্সারের একটি অন্যতম কারণ হতে পারে।
দাঁতের যত্ন না নেওয়াও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে মুখের হাইজিন মেইনটেইন করেন না, নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেন না, ঠিকমতো ব্রাশ করেন না। এতে করে দাঁতে ভাঙা বা ধারালো অংশ তৈরি হয়ে সেটি জিহ্বা কিংবা গালের ভেতরে বারবার ঘষা লাগতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে একই জায়গায় বারবার দাঁতের কামড় পড়তে থাকে। এতে ওই স্থানে শক্ত ভাব বা ছোট ক্ষত তৈরি হয়। এই ক্ষত যদি দীর্ঘদিন থাকে, যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তবে বারবার আঘাতের কারণে এটি একসময় ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। অনেক সময় বাঁধাই করা আলগা দাঁতের কারণে ক্ষত থেকেও মুখের ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া পুষ্টিহীনতা (ম্যালনিউট্রিশন), বিশেষ করে খাবারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবুজ শাক-সবজি ও ফলের অভাব মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories