সুস্থতার মৌলিক স্তম্ভগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঘুম। সুস্বাস্থ্য শুধু শরীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাসের ওপরই নির্ভর করে না। ঘুমের অভ্যাসও আপনাকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা পালন করে থাকে। বিপরীতে কম ঘুম হলে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো প্রভাবিত হয়। ফলে নানা সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে প্রতি রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো গুরুত্বপূর্ণ।
হৃদরোগের জন্য ঘুম কেন প্রয়োজনীয়:
ঘুমের সময় হৃদপিণ্ডের কী হয়- এ ব্যাপারে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ‘নক্টার্নাল ডিপিং’ নামক একটি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, যা হৃদরোগের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ব্যাপারে কথা বলেছেন মুম্বাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. রাজেশ মত্ত।
এ চিকিৎসক ‘নক্টার্নাল ডিপিং’ প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, গভীর ঘুমের সময় রক্তচাপ ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়, যা হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীগুলোকে পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূরর্ণ সময় প্রদান করে। হৃদযন্ত্রের সংস্কারের জন্য এই নিশাচর ঘুম অপরিহার্য।
মানুষের কিছু ধারণার মধ্যে খুব সাধারণ ভুল হলো দেরি করে ঘুমানো। মাঝে মাঝে এটি স্বাভাবিক হলেও ক্রমাগত দেরিতে ঘুমানো শরীরের অভ্যন্তরীণ চক্রকে ব্যাহত করার সম্ভাবনা থাকে।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাজেশ হৃদপিণ্ডের ওপর কম ঘুমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, আপনি যখন ক্রমশ কম বা অপর্যাপ্ত ঘুমান, তখন শরীর চাপের মধ্যে থাকে, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, প্রদাহ বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণকারী বিপাকীয় প্রক্রিয়াগুলো ব্যাহত হয়। তার মতে, ভালো ঘুম হৃদরোগের ওষুধ। এর অর্থ হচ্ছে, ঘুম হৃদরোগের স্বাস্থ্যের জন্য প্রাকৃতিক চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে থাকে।
ঘুমের অভ্যাস স্বাস্থ্যকর কিনা, এ নিয়েও অনেকের সন্দেহ রয়েছে। খুব সংখ্যক মানুষই তার ঘুমের স্বাস্থ্য নিয়ে অবগত। এ জন্য ঘুমের চারটি অভ্যাস সম্পর্কে জানিয়েছেন ডা. রাজেশ। তাহলে সেসব বিষয়ে এবার জেনে নেয়া যাক।
১. ঘুমানো ও ঘুম থেকে উঠার সময়ের সামঞ্জস্য:
প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করতে হবে। এমনকি সপ্তাহের বন্ধের দিনও এ অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। কেননা, কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম ছন্দের ওপর নির্ভর করে থাকে। এ জন্য সবসময় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখুন।
২. আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ:
ঘুমানোর জন্য সবসময় একটি শীতল, অন্ধকার পরিবেশ তৈরি রাখুন। ভালো ঘুমের জন্য শোয়ার ঘর বা কক্ষের তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়া উচিত।
৩. ঘুমের আগে ক্যাফিন নয়:
দুপুর ২টার পর ক্যাফেইন এবং ঘুমানোর তিন ঘণ্টার মধ্যে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা এড়িয়ে চলার অভ্যাস করুন। এসব ঘুমের মান নষ্ট করে এবং বিশ্রামের সময় আপনার হৃদয়ের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে।
৪. ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম নয়:
ঘুমানোর আন্তত ৩০ মিনিট আগে স্ক্রিন টাইম বন্ধ করুন। কেননা, নীল বা রঙিন আলো মেলাটোনিন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়।
Leave a Reply