কিডনি মানবদেহের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এর প্রধান কাজ হচ্ছে রক্ত ছেঁকে বজ্য পদার্থ আলাদা করে মূত্র তৈরি করা। যা শরীরে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট, যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখে। সেই সঙ্গে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
কিডনি ভালো রাখার জন্য সবসময় স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন পরিচালনার কথা বলা হয়। এরপরও নানা কারণে কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে বিভিন্ন লক্ষণের মধ্যে অনেকেরই প্রশ্ন, প্রস্রাবে ফনা হওয়া কিডনি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ কিনা। এ নিয়ে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যান। কিডনির সমস্যায় বিভিন্ন ছোট ছোট পরিবর্তন ও সমস্যার মাধ্যমে বুঝতে পারা যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিডনির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যাপারে কথা বলেছেন ভারতের থানের কিমস হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. অজিত গুজেলা। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
চিকিৎসকের পরামর্শ:
ডা. অজিত বলেছেন, সবসময় প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার অর্থ এটা বোঝায় না যে, কিডনি খারাপ। অনেক সময় প্রস্রাবের ধারা, ডিহাইড্রেশন, এমনকি টয়লেটে থাকা সাবানের অবশিষ্টাংশ থেকেও প্রস্রাবে ফেনা তৈরি হতে পারে। তবে এ ফেনা কয়েকদিন ধরে থাকলে সেটি প্রস্রাবে প্রোটিন লিকের জন্যও হতে পারে। তখন বুঝে নিতে হবে, কিডনির ফিল্টার ঠিকমত কাজ করছে না। যা প্রাথমিক সতর্কতা বলা যেতে পারে।
কিডনি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ:
এ চিকিৎসক বলেন, হঠাৎ একদিনের ফেনা দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে কিছু লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- কয়েকদিন ধরে প্রতিবার প্রস্রাবে ফেনা হওয়া, হাত-পা ও চোখ ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমা বা রং পরিবর্তন হওয়া এবং কোনো কারণ ছাড়াই ক্লান্তি বা ওজনের পরিবর্তন হওয়া। এসব সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রস্রাবে প্রোটিন টেস্ট এবং কিডনি ফাংশন টেস্ট করাতে হবে।
কিডনি ভালো রাখার উপায়:
ডা. অজিত বলেন, জীবনযাপনের নানা বিষয় প্রস্রাবের ফেনাকে প্রভাবিত করতে পারে। ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে সহায়তা করে। কিডনি ভালো রাখতে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। লবণ ও প্রসেসড ফুড খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে। রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অতিরিক্ত প্রোটিন ডায়েট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। পেইনকিলার গ্রহণের অভ্যাস থাকলে বাদ দিতে হবে এবং নিয়মিত ওজন ও শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হবে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন:
প্রস্রাবের ফেনা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় থাকলে বা অন্যসব উপসর্গ যেমন- ফোলাভাব, ক্লান্তি, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসককে জানাতে হবে, কতদিন ধরে ফেনা দেখছেন, রং বা পরিমাণে পরিবর্তন এসেছে কিনা, পরিবারে কারও ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড প্রেশার রয়েছে কিনা এবং কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন কিনা।
পরামর্শ ও সতর্কতা:
ডা. অজিত বলেন, প্রস্রাবে ফেনা হওয়া একটি প্রাথমিক লক্ষণ, যা কখনোই অবহেলা করা ঠিক নয়। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল রাখা উচিত। কিডনি সহায়ক অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় প্রস্রাবে ফেনা থাকলে পরীক্ষা করাতে হবে। ঠিকমত পরীক্ষা ও যত্নই কিডনির সুস্থতা রক্ষার ভালো উপায়।
এ চিকিৎসক আরও জানিয়েছেন, প্রস্রাবে ফেনা হলেই ভয় পাওয়া যাবে না। তবে সচেতন হতে হবে। ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত প্রোটিন, সাধারণ জীবনযাত্রা, সব কিছুই প্রভাব ফেলতে পারে। এ জন্য স্বাস্থ্যকর জীবন অভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ চলার চেষ্টা করুন।
Leave a Reply