ডিজিটাল যুগে সকাল শুরু থেকে রাতের ঘুম সবকিছুতেই স্ক্রিন আমাদের সঙ্গী। অফিসের কাজ হোক, সিরিজ দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রায় সবসময় স্ক্রিন নিয়ে ব্যস্ত আমরা। তবে এতে আমাদের শরীরে কেমন প্রভাব পড়ে সে বিষয়ে চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন। প্রতিদিন ৪ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা আপনার চোখ, মস্তিষ্ক এবং ঘুমের মানের উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকরা বলছেন, এটা শুধু চোখের সমস্যা নয়, বরং পুরো স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে আমাদের শরীরে যা ঘটে:
১. চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়
স্ক্রিনে মনোযোগ দিলে আমাদের চোখের পলক ফেলার হার প্রায় ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ফলে চোখের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়, তৈরি হয় ড্রাই আই সিনড্রোম। চোখে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, লালভাব সব মিলিয়ে চোখ হয়ে ওঠে শুকনো মরুভূমি।
২. দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়
একটানা একই দিকে তাকিয়ে থাকা চোখের ক্ষুদ্র পেশিগুলিকে ক্লান্ত করে তোলে। ৪ ঘণ্টা পরেই অনেকের ঝাপসা দেখা, ফোকাস বদলাতে সমস্যা, এমনকি ডাবল ভিশন হতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাকমোডেটিভ স্প্যাজম যখন আপনার চোখ আর কাজ করতে চায় না।
৩. মাথাব্যথা
চোখ, ঘাড় ও কপালের চারপাশের টান থেকে তৈরি হয় পরিচিত সেই স্ক্রিন টাইম হেডেক। এর সঙ্গে থাকে ব্লু লাইটের প্রভাব যা চোখের ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
সুস্থ থাকতে রাতে কখন ঘুমানো উচিত?
৪. ব্রেন ফগ
ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা মানে, মস্তিষ্ককে ক্রমাগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের চাপে ফেলা। এতে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, মনোযোগ কমে ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়। কখন কী পড়লেন মনে নেই এই অনুভূতিই হচ্ছে ব্রেন ফগ।
৫. মেজাজ ওঠানামা ও মানসিক ক্লান্তি
স্ক্রিন মানেই তথ্য, ছবি, ভিডিও সবকিছু একসঙ্গে। এতে ডোপামিন হরমোন ওঠানামা করে, তৈরি হয় ডিজিটাল ফ্যাটিগ। হঠাৎ মন খারাপ, অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি সবই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের লক্ষণ।
৬. ঘুমের চক্রের ওপর ভয়াবহ প্রভাব
রাতের বেলা ফোন স্ক্রল করার অভ্যাস আপনার মেলাটোনিন হরমোন দমন করেযেটি ঘুম আনার কাজ করে। ফলে ঘুম দেরিতে আসে, ঘুমের মান নষ্ট হয়, পরদিন ক্লান্তি বাড়ে।
সমাধান: ডিজিটাল এই যুগে প্রায় সব কাজ কম্পিউটার আর মোবাইলে করতে হয়। সে কারণে কর্মজীবীদের বেশি স্ক্রিন টাইম দিতে হয়। সে কারণে স্ক্রিনের প্রভাব প্রতিরোধে প্রাপ্তবয়স্কদের পরামর্শ দিয়েছে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস। তারা কিছু নিয়ম মানতে বলেছেন এগুলো হলো
প্রতি ২ ঘণ্টা পর একটি বিরতি নিন;
অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম ৪–৫ ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখুন;
ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ করুন।
চোখ ও মস্তিষ্কের যত্নে সহজ কিছু উপায়
২০-২০-২০ নিয়ম মানুন: প্রতি ২০ মিনিটে, ২০ ফুট দূরে ২০ সেকেন্ড তাকান,
বেশি পলক ফেলুন,
ব্লু লাইট ফিল্টার বা চশমা ব্যবহার করুন,
ঘাড় ও পিঠ স্ট্রেচ করুন,
কাজের ফাঁকে ছোট হাঁটা দিন।
স্ক্রিন আমাদের জীবন থেকে বাদ যাবে না, তবে ভারসাম্য রাখা জরুরি। নিয়ম মেনে চোখ ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিলে ডিজিটাল জীবনেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না।
Leave a Reply