ভিটামিন ডি’ কে বলা হয় সানশাইন ভিটামিন। এই ভিটামিন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশেষভাবে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে শরীরে নানান জটিলতা দেখা যায়। তবে সমস্যা হচ্ছে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি হলে সেটা বুঝতে অনেকটা দেরি হয়ে যায় যার ফলে ঐ সময়ের মাঝে শরীরে একের পর এক বাসা বাঁধে জটিল রোগ।
এমনকি ভিটামিন ডি’র অভাবে হাড়ের দুর্বল দেখা দেয়। এমনকি হাড়, পাতলা বা বিকৃত হতে পারে, যার ফলে শিশুদের মধ্যে রিকেটস এবং বড়দের মধ্যে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাড়ের পাশাপাশি, ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে। কিছু গবেষণা দেখায় যে, যথেষ্ট ভিটামিন ডি মানসিক ও আবেগগত সুস্থতায়ও সহায়ক। সঠিক মন ভালো রাখে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ভারতীয় চিকিৎসক ডা. সৌরভ সেথি, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানিয়েছেন। তার ইনস্টাগ্রাম ভিডিও-তে তিনি বলেছেন,
আপনার তোয়ালে আসলেই পরিষ্কার তো, গবেষণায় উঠে এলো ভয়াবহ তথ্য
ভিটামিন ডি ঘাটতির লক্ষণ:
ক্লান্তি বা ফ্যাটিগ
হালকা অবসাদ বা মুড সুয়িং
বারবার সংক্রমণ
পিঠ ও হাড়ের ব্যথা
ধীরে ঘা শুকানো
চুল পড়া
মাংসপেশির ব্যথা
উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা
ওজন বৃদ্ধি
ভিটামিন ডি বাড়ানোর উপায়: শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করে সূর্যালোকের মাধ্যমে। ডা. সেথি বলেন, দৈনন্দিন ১০-৩০ মিনিট মাঝের সূর্যের আলোতে হাত ও পা উন্মুক্ত রাখলেই প্রায় ১০০০-২০০০ ইউনিট ভিটামিন ডি তৈরি হয়। এছাড়া বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। সালমন, টুনা, ডিমের কুসুম, মাশরুম এবং ফোর্টিফায়েড খাবার কিছু উৎস। তবে ডা. সেথি উল্লেখ করেছেন, শরীরের ১৫ মিনিট সূর্যালোকের তুলনায় এগুলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া খুবই কঠিন।
দেরিতে সন্তান নেয়া কতটা নিরাপদ, চিকিৎসকরা যা বলছেন
সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন কি: যদি ঘাটতি থাকে, সাপ্লিমেন্ট সাহায্য করতে পারে। তবে এটি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে নেয়া উচিত। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি ক্ষতিকর হতে পারে এবং কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৬০০-৮০০ ইউনিট গ্রহণের পরামর্শ সাধারণ, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. সেথি বলেন, ভিটামিন ডি কেবল একটি ভিটামিন নয়, এটি হরমোনের মতো কাজ করে এবং শরীরের ২০০টির বেশি জিন নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ভিটামিন ডি’র অভাব খুব নীরব হয় যার কারণে শরীরে জটিলতা তৈরি হতে থাকে। তাই উল্লেখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি’র অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও কমতে থাকে। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে ভিটামিন ডি’র গুরুত্ব বুঝতে হবে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।
Leave a Reply